শীতলকুচি, ২০ সেপ্টেম্বরঃ শতবর্ষ পেরিয়ে আরও এক পা। প্রজন্ম বদলেছে, সময়ের সঙ্গে বদলেছে পুজোর আয়োজনও। কিন্তু বদলায়নি পুরনো রীতি আর ঐতিহ্যের টান। সেই পরম্পরাকেই সঙ্গী করে এ বার ১০৫ বছরে পা দিতে চলেছে ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের মাসান কুড়া দুর্গাপুজো। প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই খুঁটিপুজোর মাধ্যমে শুরু হয়ে গেল শারদোৎসবের প্রস্তুতি।
মাসান কুড়ার এই পুজো ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেগ দীর্ঘ দিনের। বছরের পর বছর ধরে এই পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই আটকে থাকেনি, বরং এলাকার মানুষের মিলনক্ষেত্র হিসাবেও জায়গা করে নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে পুজোর আয়োজনের পরিসর বেড়েছে, যুক্ত হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। তবে প্রাচীন রীতির ধারাবাহিকতা এখনও ধরে রেখেছে পুজো কমিটি।
খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০৫তম বর্ষকে ঘিরে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বিশেষ আয়োজন। ষষ্ঠী থেকে দশমী পুজোর পাঁচ দিনই নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে। গান-সহ একাধিক অনুষ্ঠানে পুজোর দিনগুলিতে জমজমাট পরিবেশ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। মণ্ডপ থেকে অনুষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করছে কমিটি। শতবর্ষ পেরোনো একটি পুজোর ঐতিহ্যকে ধরে রেখেই নতুন প্রজন্মের কাছে উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে উৎসাহ। পুজোর দিনগুলিতে শুধু স্থানীয় মানুষই নন, আশপাশের এলাকার দর্শনার্থীদেরও ভিড় হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। ফলে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার দিকগুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুজো কমিটির সভাপতি সৌভাগ্য বর্মন, সম্পাদক উৎপল পাল এবং কোষাধ্যক্ষ সুধীর বর্মনের নেতৃত্বে চলছে প্রস্তুতি। ১০৫ বছরের পুরনো এই পুজোর ঐতিহ্য যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, তার পাশাপাশি এবারের উৎসবও যেন সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে ওঠে সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
শতবর্ষ পেরিয়ে আরও পাঁচ বছর। মাসান কুড়ার দুর্গাপুজোয় তাই এ বার শুধুই আর একটি পুজো নয় পুরনো দিনের রীতির সঙ্গে নতুন দিনের উৎসবকে মিলিয়ে দেওয়ারও এক বিশেষ আয়োজন।





