শিলিগুড়ি, ২০ সেপ্টেম্বরঃ সারি দিয়ে ছুটল প্রায় ৫০টি গাড়ি। কোনও গাড়িতে পাহাড়, কোনওটিতে জঙ্গল, কোথাও আবার বাংলার সমুদ্রসৈকত। গাড়ির শরীরে সাজানো রাজ্যের নানা পর্যটনকেন্দ্রের ছবি। উদ্দেশ্য একটাই রাস্তায় রাস্তায় বাংলার পর্যটনের প্রচার। সেই র্যালির পরেই শিলিগুড়িতে বসল পর্যটন পরিবহণ শিল্পের ‘ক্লাসরুম’। চালক থেকে ট্রান্সপোর্টার প্রায় ৩০০ জনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হল ‘ট্যুরিজম, মোবিলিটি অ্যান্ড রোড সেফটি সামিট ২০২৬’।
নর্থ বেঙ্গল টুরিস্ট ট্রান্সপোর্ট অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে শিলিগুড়ির মৈনাক টুরিস্ট লজে আয়োজিত এই সামিটে পর্যটন পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ এবং পেশাদার করে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। তার আগে আয়োজিত বিশেষ কার র্যালি কার্যত হয়ে ওঠে বাংলার পর্যটন প্রচারের চলন্ত প্রদর্শনী।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজ্যের পূর্ত (PWD) এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE) দফতরের পূর্ণমন্ত্রী ডক্টর অজয় কুমার পোদ্দার। বক্তব্যে তিনি জানান, পুজোর আগেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কারের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাহাড়ের বিভিন্ন রাস্তাঘাট নতুন করে সাজানো এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
পর্যটনের সঙ্গে রাস্তার সম্পর্ক যে সরাসরি, তা এদিনের আলোচনায় বার বার উঠে আসে। পর্যটক গন্তব্য যতই আকর্ষণীয় হোক, সেখানে পৌঁছনোর পথ নিরাপদ এবং স্বচ্ছন্দ না হলে পর্যটন পরিষেবার মানও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই পর্যটকদের যাতায়াতে যাতে সমস্যা না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পোদ্দার।
সামিটের আর একটি বড় বিষয় ছিল চালকদের প্রশিক্ষণ। NBTTOA-এর অ্যাডভাইজার এবং EHTTOA-এর প্রেসিডেন্ট দেবাশীষ মৈত্র জানান, পর্যটন পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তির যোগ ক্রমশ বাড়ছে। ফলে চালকদেরও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করে তোলা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, পর্যটকদের উন্নত পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ এবং পেশাদার পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ।
চালকদের উৎসাহিত করতেও ছিল বিশেষ আয়োজন। পর্যটন পরিবহণ ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচ জন চালককে দেওয়া হয় ‘বেস্ট সারথি’ সম্মান। আয়োজকদের বক্তব্য, পর্যটকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে চালকরাই সামনের সারিতে থাকেন। তাঁদের ব্যবহার, দক্ষতা, নিরাপদ গাড়ি চালানো এবং পেশাদারিত্ব পর্যটকের অভিজ্ঞতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
অনুষ্ঠানে থাকার কথা ছিল রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষের। তবে বিশেষ কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান তিনি। পর্যটন, পরিবহণ এবং সড়ক নিরাপত্তাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে এমন উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও বার্তা দেন মন্ত্রী।
আয়োজকদের মতে, পর্যটন মানচিত্রে উত্তরবঙ্গের গুরুত্ব বাড়ছে। সেই বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবহণ ব্যবস্থাকেও আরও সংগঠিত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং নিরাপদ করে তোলা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, চালকদের স্বীকৃতি এবং রোড সেফটি চারটি বিষয়কে এক মঞ্চে এনে এই সামিট। বাংলার পর্যটনকে রাস্তায় তুলে ধরার ৫০ গাড়ির র্যালি যেন সেই বার্তাকেই আরও দৃশ্যমান করে দিল।





