গোঘাট, ২০ সেপ্টেম্বরঃ সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে একের পর এক বিতর্কিত পোস্ট। অভিযোগ, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক বিভাজনে উসকানিমূলক ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই অভিযোগেই এ বার গ্রেফতার গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য ফিরোজ আলি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোঘাটে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতেই ফিরোজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টগুলির স্ক্রিনশটও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। রবিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে আরামবাগ মহকুমা আদালতে পেশ করে গোঘাট থানার পুলিশ।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা পোস্টগুলির কয়েকটি স্ক্রিনশট ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে ‘শুক্রবারিয়া’-র মতো শব্দ ব্যবহারের পাশাপাশি হিন্দুদের নিয়ে হিংসাত্মক ও উসকানিমূলক মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ। একাধিক পোস্টে বিতর্কিত ছবিও ব্যবহারের দাবি উঠেছে। সেই সূত্রেই সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করে পুলিশের দ্বারস্থ হন বিজেপি বিধায়ক।
তবে গ্রেফতারির পর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিরোজ। আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তাঁর দাবি, তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগও তিনি মানতে চাননি। তাঁর কথায়, কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা পুলিশই ভাল বলতে পারবে।
অন্য দিকে বিজেপির বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত পোস্টের ভিত্তিতেই আইনানুগ পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। বিধায়কের অভিযোগ, একজন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিকে নিয়ে এমন ভাষা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ও জড়িত।
ফলে গোঘাটের এই গ্রেফতারিকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এখন সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টগুলি। সেগুলি আদৌ ফিরোজের করা কি না, পোস্টগুলির প্রেক্ষিত কী এবং অভিযোগে যে সাম্প্রদায়িক উসকানির কথা বলা হচ্ছে, তার আইনি ভিত্তি কতটা তদন্তে সেই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজবে পুলিশ। আপাতত তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।





