নিজস্ব সংবাদদাতা, ২১ জুলাইঃ রাজনীতির পথ অনেক আগেই আলাদা হয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে আজ তীব্র আক্রমণই রোজনামচা। তবু ইতিহাসের সামনে যেন থমকে দাঁড়াতে হল কংগ্রেসকে। একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণে শহিদ মিনারের মঞ্চজুড়ে এ বার ফিরে এল ১৯৯৩ সালের সেই আন্দোলনের মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিল তৎকালীন যুব কংগ্রেস। সেই কর্মসূচির সামনের সারিতে ছিলেন যুব নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের লাঠিচার্জ, গুলিচালনা, ১৩ কর্মীর মৃত্যু সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি নিয়েই গড়ে উঠেছিল একুশে জুলাইয়ের রাজনৈতিক অভিঘাত। পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গড়েন মমতা। দীর্ঘ আন্দোলনের শেষে রাজ্যের ক্ষমতায়ও আসেন। রাজনৈতিক দূরত্ব ক্রমশ বেড়েছে, কটাক্ষও তীব্র হয়েছে। চলতি বছরের বিধানসভা ভোটের আগে রাহুল গান্ধীও প্রকাশ্য সভা থেকে মমতাকে দুর্নীতির অভিযোগে আক্রমণ করেছিলেন।
তবু এ বছরের শহিদ স্মরণে কংগ্রেসের মঞ্চে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ল সেই মমতারই ছবি। শহিদ মিনারে তৈরি গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে ১৯৯৩ সালের আন্দোলনের একাধিক আলোকচিত্র। রয়েছে মমতার নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযানের দৃশ্য। এমনকি ২০০৩ সালের শহিদ দিবসের একটি ছবিও প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে মঞ্চে মমতার পাশে রয়েছেন তৎকালীন এনডিএ চেয়ারম্যান জর্জ ফার্নান্ডেজ। ছবির নীচে লেখা ‘এটা শুধু অন্যায় নয়, পাপ।’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ইতিহাসের বাস্তবতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। কারণ, আন্দোলনের ডাক কংগ্রেসের ব্যানারে হলেও সেই দিনের মুখ ছিলেন মমতাই। তাঁকে সরিয়ে রেখে ২১ জুলাইয়ের ইতিহাস তুলে ধরা কার্যত অসম্ভব।
অবশ্য ইতিহাসকে স্বীকার করলেও বর্তমান রাজনীতিতে কংগ্রেস আক্রমণের সুর নরম করেনি। দলের নেতাদের বক্তব্য, আন্দোলনের ইতিহাস যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনই পরবর্তী সময়ে শহিদদের স্মৃতিকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। এ দিন কংগ্রেসের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কয়েক জন শহিদ পরিবারের সদস্যও। আবার কেউ কেউ বার্তা পাঠিয়ে জানান, দীর্ঘ ৩৪ বছরেও বিচার না মেলায় তাঁরা এবার কোনও শহিদ সমাবেশেই যোগ দিচ্ছেন না।
তবু দিনের শেষে একটি ছবি যেন সবচেয়ে স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও ২১ জুলাইয়ের ইতিহাস লিখতে গিয়ে কংগ্রেসকেও ফিরতে হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই।





