নিজস্ব সংবাদদাতা, ২১ জুলাইঃ একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ মঞ্চে এমন দৃশ্য আগে দেখা যায়নি। হাজারো কর্মী-সমর্থকের সামনে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে প্রকাশ্য বাক্বিতণ্ডা। ভাষণের দৈর্ঘ্য নিয়ে শুরু হওয়া মতভেদ মুহূর্তেই রূপ নেয় তর্কে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, মঞ্চ ছেড়েই বেরিয়ে যান শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁকে ফেরাতে এগিয়ে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন গলাতে পারেননি কেউ।
মঙ্গলবার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ স্মরণসভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন কল্যাণ। বিজেপির পাশাপাশি ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছিলেন তিনি। বক্তব্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষের নাম উল্লেখ করে কড়া রাজনৈতিক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, তৃণমূল কর্মীদের মৃত্যুর রাজনৈতিক জবাব দিতেই তাঁদের লড়াই।
ক্রমশ দীর্ঘ হতে থাকে তাঁর ভাষণ। মঞ্চে বসে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক বার ইশারায় বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ জানান বলে দলীয় সূত্রের দাবি। কিন্তু কল্যাণ নিজের বক্তব্য চালিয়ে যান। পরে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ গিয়ে তাঁকে ভাষণ শেষ করার অনুরোধ জানান। বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চে ফিরে আসতেই তাঁকে কম সময় ধরে বক্তব্য রাখার পরামর্শ দেন মমতা।
সেখানেই পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নেত্রীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদান তুলে ধরে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান কল্যাণ। কথার লড়াই চলতেই তিনি আর নির্ধারিত আসনে না বসে মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত এগিয়ে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা অনেকক্ষণ ধরে কল্যাণকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি আর মঞ্চে ফিরতে রাজি হননি। ক্ষোভ প্রকাশ করেই অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান।
একুশে জুলাই তৃণমূলের কাছে রাজনৈতিক ও আবেগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেই মঞ্চেই শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য অস্বস্তি রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা উসকে দিল। দলের অন্দরে মতভেদের ইঙ্গিত কি এ বার প্রকাশ্যেও ধরা পড়তে শুরু করল প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।





