খবরিয়া ২৪ ডেস্কঃ ভারতে ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ভুগছেন ফুসফুসের ক্যান্সারে। ন্যাশনাল ক্যান্সার রেজিস্ট্রি প্রোগ্রাম এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (ICMR)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ক্যান্সার রোগীর প্রায় ৯.৩ শতাংশ ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত। এতদিন এই রোগের প্রধান কারণ হিসেবে ধূমপানকে দায়ী করা হলেও, সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে নতুন উদ্বেগজনক তথ্য। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী ধূমপান না করা মানুষদের মধ্যেও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে, যার অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে ক্ষতিকর কণার মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে দীর্ঘদিন সেই দূষিত বাতাসে নিঃশ্বাস নিলে ফুসফুসের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলেই ধীরে ধীরে ক্যান্সারের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময়ই স্পষ্ট নয়। ফলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে, যা চিকিৎসাকে আরও জটিল করে তোলে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কিছু সাধারণ উপসর্গ আগে থেকেই চিনে রাখলে এই মারাত্মক রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেমন, প্রথমত, ঠান্ডা বা সংক্রমণ না থাকলেও যদি তিন সপ্তাহের বেশি কাশি চলতেই থাকে, তা হলে অবহেলা করা ঠিক নয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী কাশির সঙ্গে ফুসফুসের ক্যান্সারের যোগ রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, বারবার নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিস হওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং শ্বাস নেওয়ার সময় সাঁই সাঁই শব্দ হওয়াও বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে।
তৃতীয়ত, কোনও কারণ ছাড়াই বুক, পিঠ, কাঁধ বা পাঁজরের হাড়ে ব্যথা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
চতুর্থত, সর্দি না থাকলেও গলা বসে যাওয়া, কফে রক্ত দেখা বা গলায় কফ আটকে থাকার অনুভূতি বিপজ্জনক লক্ষণ হতে পারে।
পঞ্চমত, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ও খিদে কমে যাওয়াও ক্যান্সারের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে ফুসফুসের ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।





