খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৪ জানুয়ারি: শূন্য থেকে শিখরে ওঠার এক অনন্য সাফল্যকাহিনি রচনা করলেন উত্তরপ্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা শ্রবণ কুমার বিশ্বকর্মা। মাত্র সাত বছর আগেও যিনি রাস্তায় টেম্পো ও লোডার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, আজ তিনিই উত্তরপ্রদেশের প্রথম স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা বিমান সংস্থা ‘শঙ্খ এয়ার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক। তাঁর এই অসাধারণ যাত্রা আজ বহু তরুণের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
৩৫ বছর বয়সি শ্রবণ কুমার বিশ্বকর্মার কর্মজীবনের শুরু হয় পরিবহণ ক্ষেত্র দিয়ে। টেম্পো চালানোর পাশাপাশি তিনি ধীরে ধীরে সিমেন্ট ও ইস্পাত ব্যবসায় পা রাখেন। ২০১৪ সালে সিমেন্ট ব্যবসায় প্রবেশের পর তাঁর জীবনে আসে বড় মোড়। এরপর TMT রিবার শিল্পে সাফল্য অর্জন করে তিনি ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন সিমেন্ট, খনি ও পরিবহণ খাতে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একটি বড় ট্রাক বহর গড়ে তোলেন, যা তাঁর ব্যবসার ভিতকে আরও শক্ত করে।
প্রায় চার বছর আগে তাঁর মনে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে প্রবেশের চিন্তা আসে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা শ্রবণ কুমার বিশ্বকর্মার কাছে তখনও বিমান সংস্থা গড়া ছিল এক বড় স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে তিনি ধীরে ধীরে বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের নিয়মকানুন সম্পর্কে জানতে শুরু করেন এবং প্রয়োজনীয় নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) সংগ্রহ করেন।
সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, শঙ্খ এয়ার ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথমার্ধে তিনটি এয়ারবাস বিমানের প্রাথমিক বহর নিয়ে যাত্রা শুরু করবে। এই বিমান সংস্থা লখনউকে দিল্লি, মুম্বই সহ দেশের বিভিন্ন মেট্রো শহরের সঙ্গে যুক্ত করবে। বিশ্বকর্মার লক্ষ্য, সাধারণ মানুষের জন্য বিমানযাত্রাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা।
শ্রবণ কুমার বিশ্বকর্মা বলেন, বিমান তাঁর কাছে বিলাসিতা নয়, বরং বাস বা টেম্পোর মতোই একটি সাধারণ পরিবহণ মাধ্যম হওয়া উচিত। শঙ্খ এয়ারের পথচলা কেবল একটি ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প নয়, বরং প্রমাণ করে যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও সাহস থাকলে যেকোনও সামাজিক-অর্থনৈতিক পটভূমি থেকেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছনো সম্ভব।





