খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৪ মার্চঃ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণে বড়সড় সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই এলপিজি বোঝাই একটি ভারতীয় জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মিনা সাকর বন্দর বন্দরে আটকে পড়েছে। জাহাজে রয়েছেন ৩৩ জন ক্রু সদস্য।জাহাজটির ক্যাপ্টেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা বীরেন্দ্র বিশ্বকর্মা। তিনি জানান, কুয়েতের মিনা আল আহমাদি বন্দর বন্দর থেকে গুজরাটের দীনদয়াল বন্দর-এর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এলপিজি বোঝাই জাহাজটি। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গত ২ মার্চ থেকে সেটি আর এগোতে পারেনি।বর্তমানে আকাশে প্রায়ই মিসাইল ও ড্রোন উড়তে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন বিশ্বকর্মা। তাঁর কথায়, “প্রতিদিনই মাথার উপর দিয়ে মিসাইল যাচ্ছে, সাইরেন বাজছে। যে কোনও সময় কী হতে পারে তা আমরা কেউই জানি না। আমরা শুধু চাই ভারতীয় নৌবাহিনী এসে আমাদের নিরাপদে এখান থেকে বের করে নিয়ে যাক।”মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, বিশেষ করে আলী খামেনি-কে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর। সেই উত্তেজনার জেরেই তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহেও বড় প্রভাব পড়েছে।জাহাজে আপাতত প্রায় দু’মাসের খাদ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন। তবে দীর্ঘদিন আটকে থাকার কারণে উদ্বেগ বাড়ছে ক্রু সদস্যদের মধ্যে। তাঁদের সংস্থাও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও ভারতীয় নৌবাহিনী-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।এদিকে ক্যাপ্টেন বিশ্বকর্মার পরিবারও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী জানান, ইন্টারনেট সংযোগ পেলেই স্বামীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন তাঁরা। পরিবারের একটাই প্রার্থনা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও যেন জাহাজে আটকে থাকা সব নাবিক নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন।
যুদ্ধের মাঝে হরমুজ প্রণালীতে আটকে ভারতীয় জাহাজ, মিসাইলের শব্দে আতঙ্কে দিন কাটছে ৩৩ নাবিকের, ভারতীয় নৌবাহিনীর অপেক্ষায় পরিবার
---Advertisement---





