খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, ১৪ জুলাইঃ এতদিন অন্যদের জয়ের কৌশল সাজিয়েছেন। এবার নিজেই নেমেছেন ভোটের ময়দানে। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। আর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হল তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান। তাতেই সামনে এসেছে প্রায় ৯৬ কোটি টাকার সম্পদের হিসাব। শুধু তাই নয়, তাঁর স্ত্রী জাহ্নবী দাসের সম্পত্তির পরিমাণও ১০০ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়েছে।
সোমবার বাবা হরিহরনাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে যান প্রশান্ত। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে পৌঁছন নির্বাচন দফতরে। সেই মনোনয়নপত্রে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৯৬.০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২২.১৯ কোটি টাকা এবং অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭৩.৮৭ কোটি টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি আবাসনে তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আরও দুটি ফ্ল্যাটে রয়েছে ৫০ শতাংশ মালিকানা। পাশাপাশি পাটনার পাটলিপুত্র কলোনি, দিল্লির বসন্ত বিহার এবং বক্সারে জমি রয়েছে তাঁর নামে। পারিবারিক গ্রামেও রয়েছে জমিজমা। এছাড়া ভেদা ভেঞ্চার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থার মালিকও তিনি। দলীয় সূত্রের দাবি, জন সুরাজ পার্টির আর্থিক কর্মকাণ্ডে ওই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে সম্পদের পাশাপাশি ৫.৭৭ কোটি টাকার ঋণের কথাও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন প্রশান্ত।
অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী জাহ্নবী দাস, পেশায় আইনজীবী, তাঁর নামেও রয়েছে একাধিক স্থাবর সম্পত্তি। দু’টি ফ্ল্যাট-সহ অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ কোটিরও বেশি বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্যতম পরিচিত নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এবার নিজের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার পরীক্ষায় নামছেন প্রশান্ত। জন সুরাজ পার্টি গঠনের পর এটাই তাঁর প্রথম নির্বাচনী লড়াই।
বাঁকিপুর কেন্দ্রটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানকার বিধায়ক নীতীন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। সেই আসনেই বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রার্থী হয়েছেন প্রশান্ত। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তাঁর মন্তব্য, “এটা শুধু আমার মনোনয়ন নয়, গোটা বিহারের পরিবর্তনের মনোনয়ন।”
অন্যের নির্বাচনী সমীকরণ মিলিয়ে দেওয়া মানুষটি এবার নিজেই ভোটের অঙ্ক কষবেন। আর সেই লড়াইয়ের আগেই তাঁর বিপুল সম্পত্তির হিসাব রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।





