মুর্শিদাবাদ, ৯ সেপ্টেম্বরঃ নিজের গড় রেজিনগরেই কি হারের আশঙ্কা দেখছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর? এত দিন যে রেজিনগর নিয়ে তাঁর গলায় ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর, উপনির্বাচনের ঘণ্টা বাজতেই সেই সুরে যেন কিছুটা বদল। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপিকে রুখতে রাজ্যের সমস্ত বিরোধী দলকে ‘ইগো’ ভুলে এক ছাতার তলায় আসার ডাক দিয়েছেন নওদার বিধায়ক। আর সেই বার্তার পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন রেজিনগরের ভোটে কি কোনও অঙ্ক হুমায়ুনকে চিন্তায় ফেলেছে?
মঙ্গলবার নিজের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন বলেন, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৮৬টিতে বিরোধীরা জয়ী হয়েছেন। তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম, আইএসএফ এবং তাঁর দলের বিধায়ক রয়েছেন সেই তালিকায়। তাঁর বক্তব্য, এই বিধায়কেরা যদি ব্যক্তিগত বা দলীয় ‘ইগো’ সরিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হন, তা হলে ২০২৬ সালেও বিজেপিকে রোখা সম্ভব।
শুধু জোটের ডাক নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজন চক্রবর্তী, নওশাদ সিদ্দিকী থেকে কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রত্যেককেই নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে আলোচনায় বসার বার্তা দিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর যুক্তি, বাংলার স্বার্থে বিরোধীদের এক মঞ্চে আসা জরুরি। তবেই তৈরি হবে ‘গ্রহণযোগ্য বিরোধী শক্তি’।
তবে রেজিনগরের অঙ্কে তাঁর এই অবস্থান নিয়েই তৈরি হয়েছে কৌতূহল। কারণ, এই কেন্দ্র নিয়ে কংগ্রেসেরও আগ্রহ রয়েছে। মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী প্রকাশ্যে রেজিনগর কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপিকে ঠেকাতে কংগ্রেসের হাত শক্ত করার যুক্তি দিয়েছিলেন তিনি। যদিও অধীর চৌধুরী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রেজিনগরে কংগ্রেস নিজের শক্তিতেই লড়বে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা দুই কেন্দ্রেই জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন। নিয়ম মেনে পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। রেজিনগরে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬। এ বার সেই আসনেই নিজের ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছেন।
ফলে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে রেজিনগরে বিরোধী ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনাই কি হুমায়ুনের উদ্বেগের কারণ? নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের কথা মাথায় রেখেই তাঁর এই জোট-বার্তা? উত্তর মিলবে ৬ অক্টোবরের ভোটে। ফল ঘোষণা ৯ অক্টোবর।





