কোচবিহার, ৯ সেপ্টেম্বর: জল আছে বলেই জীবন। কিন্তু ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কমছে, বাড়ছে জলের অপচয়ও। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের জলসঙ্কট মোকাবিলায় বৃষ্টির জল সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে কোচবিহারে আয়োজিত হল “ক্যাচ দ্য রেইন” কর্মসূচি। বুধবার কোচবিহার পুরসভার উদ্যোগে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট-এর নির্দেশনা মেনে কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। মূল লক্ষ্য, বৃষ্টির জল ধরে রাখা, জলের অপচয় রোধ এবং জলসম্পদ সংরক্ষণ সম্পর্কে পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর মহকুমাশাসক তথা কোচবিহার পুরসভার প্রশাসক গোবিন্দ নন্দী, পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার-সহ অন্যান্য আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বক্তারা পড়ুয়াদের সামনে জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বৃষ্টির জলকে নষ্ট না করে কী ভাবে তা ভবিষ্যতের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা যায়, সেই বিষয়েও সচেতন করা হয়।
তবে শুধু সচেতনতা প্রচারেই কি জলসঙ্কটের মোকাবিলা সম্ভব? প্রশ্ন উঠছে সেখানেই। শহরাঞ্চলে জল সরবরাহ, ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার এবং বর্ষার জল ধরে রাখার পরিকাঠামো এই তিন ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশ সচেতনদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, একটি দিনের কর্মসূচির পাশাপাশি বাড়ি, স্কুল, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পুরসভা এলাকায় জল সংরক্ষণের স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।
অন্য দিকে, প্রশাসনের তরফে পড়ুয়াদের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার পিছনে রয়েছে সচেতনতা তৈরির কৌশল। কারণ ছাত্রছাত্রীরা বাড়ি ও পাড়ায় জল সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সেই ভাবনাতেই পড়ুয়াদের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের বার্তা ছিল স্পষ্ট জল অপচয় বন্ধ করতে হবে, বৃষ্টির জল ধরে রাখতে হবে। কিন্তু সচেতনতার সেই বার্তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে প্রশাসনিক পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের উপর। “ক্যাচ দ্য রেইন” -এর বার্তা তাই শুধু অনুষ্ঠানের মঞ্চে নয়, পৌঁছতে হবে প্রতিটি বাড়ির জলাধার এবং প্রতিটি স্কুলের ছাদেও।





