মুর্শিদাবাদ, ৯ সেপ্টেম্বরঃ বিজেপিকে রুখতে বিরোধীদের একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। সেই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগর উপনির্বাচনের ময়দানে নামলেন তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ। বুধবার বহরমপুরে জেলাশাসকের দফতরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, রেজিনগরে তাঁর লড়াই মূলত বিজেপির সঙ্গেই। ফলে উপনির্বাচনের আগে হুমায়ুনের বিরোধী ঐক্যের বার্তা ঘিরে যে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছিল, গোলামের মন্তব্যে তা আরও উস্কে উঠল।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর গোলাম বলেন, “এর আগেও বিজেপিই ছিল। এখনও বিজেপিই থাকবে। অন্য কোনও দল থাকবে বলে আমার মনে হয় না।” একই সঙ্গে নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর থেকে তাঁর বাবা জয় পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তাঁদের রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে। মানুষের পাশে তাঁরা ছিলেন, এখনও আছেন। তাই ভোটাররাও তাঁদের পাশে থাকবেন বলে আশাবাদী তিনি।
এ বার অবশ্য প্রচারের কৌশলেও কিছুটা ভিন্নতার ইঙ্গিত দিয়েছেন গোলাম। তাঁর কথায়, প্রচারে কোনও ‘সেলিব্রিটি’ মুখকে আনার পরিকল্পনা নেই। বরং অঞ্চল ও বুথ স্তরের নেতৃত্বকেই সামনে রেখে প্রচার চালানো হবে। তবে বাবা হুমায়ুন কবীর যে তাঁর প্রচারে থাকবেন, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
এর ঠিক আগের দিনই হুমায়ুনের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে অন্য প্রশ্ন উঠেছিল। তিনি রাজ্যের বিরোধী দলগুলির বিধায়কদের একজোট হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিরোধীদের মধ্যে ‘ইগো’ সরিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করতে পারলে বিজেপিকে রোখা সম্ভব।
সেই বক্তব্যের পরেই প্রশ্ন ওঠে নিজের ঘর রেজিনগর নিয়েও কি কোনও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে? তাই কি আগেভাগেই বিরোধী ভোট এক জায়গায় আনার বার্তা দিচ্ছেন হুমায়ুন? যদিও তাঁর বক্তব্যে সরাসরি রেজিনগর উপনির্বাচনে হারের আশঙ্কার কথা নেই।
রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা। বুধবার থেকেই মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করে ভোটের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। এখন নজর, হুমায়ুনের বিরোধী ঐক্যের ডাক শেষ পর্যন্ত ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে।





