কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বরঃ পুজোমণ্ডপে ঢোকার আগে এ বার পরীক্ষা হবে, দর্শনার্থী নেশাগ্রস্ত কি না! দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের ঐতিহ্যবাহী চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির এ বছরের পুজোয় এমনই অভিনব নিয়ম। তৃতীয়া থেকে দ্বাদশী পুজোর প্রতিটি দিনই মদ্যপ অবস্থায় কাউকে মণ্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আর সেই নিয়ম কার্যকর করতেই প্রবেশপথে ব্যবহার করা হবে ব্রেথলাইজার।
চক্রবেড়িয়ার এ বছরের থিম ‘পদ্ম দিঘির ঘাটে’। প্রতিবারের মতো এ বারও পুজো ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়ের প্রত্যাশা রয়েছে। সেই ভিড় সামলানোর পাশাপাশি মণ্ডপের পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি। ব্রেথলাইজার পরীক্ষার ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের সাহায্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি মণ্ডপের নিরাপত্তায় থাকবে প্রায় ৩০ জনের একটি নিরাপত্তারক্ষী দল। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকেরাও।
পুজো কমিটির কার্যকরী সভাপতি গোরা রায়চৌধুরীর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অষ্টমীর দিন রাজ্যে মদ বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তের কথা মাথায় রেখেই মণ্ডপে মদ্যপ দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। যদিও কোনও দর্শনার্থী মদ্যপ কি না, তা নিয়ে বিতর্ক এড়াতে পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখছে কমিটি।
প্রসঙ্গত, পুজোর বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এ বার অষ্টমীর দিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে। বার বা পানশালা খোলা থাকলেও মদ পরিবেশন করা যাবে না। সাধারণত পুজোর ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত মদের দোকান খোলা থাকে এবং দশমীতে থাকে ‘ড্রাই ডে’। কিন্তু এ বার সপ্তমী দু’দিন হওয়ায় অষ্টমীতেও মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকছে। ফলে পুজোর পাঁচ দিনের মধ্যে দু’দিন মদ বিক্রি বন্ধ থাকবে।
সেই সরকারি সিদ্ধান্তের পরেই চক্রবেড়িয়ার এই পদক্ষেপ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে প্রশ্ন থাকছে, প্রবেশপথে ব্রেথলাইজার পরীক্ষায় কতটা সহজে সামলানো যাবে ভিড়? দর্শনার্থীদের অসুবিধা না করে কী ভাবে নিয়ম কার্যকর হবে, সেটাই এখন উদ্যোক্তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।





