খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩ ফেব্রুয়ারি: কয়লা পাচার মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করে মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলায় সংগৃহীত নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে মোট ৯ জনের নাম উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। সেই তালিকায় রয়েছে রাজ্য পুলিশের এক আধিকারিকের নামও। মঙ্গলবার সকালে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছন ইডি আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, মাত্র দু’দিন আগেই বুদবুদ থানার ওসির দায়িত্ব পান মনোরঞ্জন মণ্ডল। ইডি সূত্রে খবর, কয়লা পাচার মামলায় যে ‘প্রোটেকশন মানি’র লেনদেন হয়েছিল, তার সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে। দাবি করা হয়েছে, কয়লা পাচারকারী ব্যবসায়ীদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের বাড়িতেই ছিলেন মনোরঞ্জন মণ্ডল। তল্লাশির পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এদিন সকাল থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের মোট ৯টি জায়গায় ইডির অভিযান শুরু হয়। কয়লা পাচার চক্রের আর্থিক লেনদেন এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির একাধিক জায়গাতেও ইডির দল তল্লাশি চালাচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
ইডি জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে চালানো একাধিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল প্রমাণের সূত্র ধরেই নতুন নামগুলি সামনে এসেছে। দু’মাস আগে ইডির হাতে আসা মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেই মনোরঞ্জন মণ্ডলের নাম উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। এই মামলায় কিরণ খান, শেখ আখতার, প্রবীর দত্ত, অমিত বনশল, মির্জা নিজামুদ্দিন এবং চিন্ময় মণ্ডলের নামও রয়েছে। সূত্রের দাবি, চিন্ময় মণ্ডল ছিলেন কয়লা পাচার চক্রের অন্যতম মাথা।
দুর্গাপুরে বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের বিলাসবহুল বাড়িতেও এদিন অভিযান চালায় ইডি। সেখানে প্রথমে তদন্তকারীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হলেও পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে দরজা খুলে তল্লাশি শুরু হয়। তাঁর ভাইয়ের বাড়িতেও একযোগে তল্লাশি চলছে।
উল্লেখ্য, আজই সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি রয়েছে। তার ঠিক আগের দিন কয়লা পাচার মামলায় ইডির এই তৎপরতা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।





