খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৭ ফেব্রুয়ারিঃ রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার বুথ লেভেল অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বকেয়া সাম্মানিক এখনও মেটায়নি রাজ্য সরকার। নির্বাচন কমিশনের তরফে একাধিকবার রাজ্যকে টাকা রিলিজ করার অনুরোধ জানানো হলেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে কয়েক মাস ধরে পারিশ্রমিক না পেয়ে ক্রমশ অসন্তোষ বাড়ছে বিএলও কর্মীদের মধ্যে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসের শেষেই রাজ্য সরকারকে জানানো হয়েছিল যে বিএলওদের পারিশ্রমিক বাবদ প্রায় ৭০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। কিন্তু রাজ্যের অর্থ দপ্তর সেই টাকা ছাড় না করায় ডিসেম্বর মাসেও বিএলওদের সাম্মানিক দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর কমিশনের তরফে প্রথম দফায় নবান্নে চিঠি পাঠানো হয়। তাতেও কোনও সাড়া না মেলায় দ্বিতীয়বার চিঠি দেওয়া হয়।
চাপের মুখে রাজ্য সরকার পরে ৬১ কোটি টাকা ছাড়ে। সেই অর্থে প্রায় ৯৫ হাজার বিএলও-কে আংশিক সাম্মানিক দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু এখনও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা বকেয়া থাকায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রায় দু’মাস কেটে গেলেও বাকি অর্থ রাজ্যের তরফে না আসায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
এ বছর বিএলওদের পারিশ্রমিক প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে বছরে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হত, সেখানে এবার তা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। বিশেষ ভাতা মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার টাকা পাওয়ার কথা বিএলওদের। অন্যদিকে, বিএলও সুপারভাইজারদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ অনুমোদিত হলেও রাজ্যের অর্থ দপ্তর টাকা না ছাড়ায় কর্মীরা তাঁদের প্রাপ্য সম্মানিক পাচ্ছেন না।
ভোটার তালিকা সংশোধন ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বিএলওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি, তথ্য যাচাই ও অনলাইনে আপডেট সব কাজই করতে হয়েছে তাঁদের। অনেক কর্মীর অভিযোগ, এসআইআর চলাকালীন নিজের মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে হয়েছে, এমনকি স্মার্টফোন কিনতেও বাধ্য হয়েছেন কেউ কেউ। এসব বিবেচনাতেই বিশেষ ভাতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বিপুল কাজের পরেও সময়মতো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন বহু বিএলও। নির্বাচন কমিশনের নতুন করে পাঠানো চিঠির পর রাজ্য সরকার কবে বকেয়া অর্থ ছাড়বে, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে হাজার হাজার কর্মী।





