খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ ফেব্রুয়ারিঃ দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত রণংদেহি মেজাজে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে বঙ্গভবনের বাইরে দিল্লি পুলিশের অতি-সক্রিয়তা এবং বাংলা থেকে আসা এসআইআর (SIR) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হেনস্থার অভিযোগে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেত্রী। পুলিশের ব্যারিকেড, প্রিজন ভ্যান ও অতিরিক্ত বাহিনী দেখে মেজাজ হারিয়ে তিনি বলেন, “দিল্লিতে জমিদারি চলছে! দালালি করবেন না। দিল্লি পুলিশের এই আচরণ দেখুন।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ভয় দেখাতেই বঙ্গভবনের চারপাশ কার্যত ঘিরে ফেলা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর কারণে যাঁদের ‘মৃত’ বলে নির্বাচন কমিশনের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন বহু মানুষ সশরীরে উপস্থিত রয়েছেন। মমতার বক্তব্য, “আমার সঙ্গে আসা প্রায় ১৫০ জনের মধ্যে অন্তত ৫০টি পরিবার আছে, যাদের মৃত দেখানো হয়েছে। অথচ তাঁরা জীবিত। দিল্লিতে গরিবদের কোনও জায়গা নেই।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশকেও কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “দিল্লিতে যখন বিস্ফোরণ হয়, তখন দিল্লি পুলিশ কোথায় থাকে? আর আজ শান্তিপূর্ণ মানুষদের ঘিরে ধরে বাহাদুরি দেখাচ্ছে! যিনি এই বাহিনীর মাথায় রয়েছেন, দায় তাঁরই।”
মমতা আরও দাবি করেন, খুব অল্প সংখ্যক মানুষ নিয়েই তিনি দিল্লিতে এসেছেন। তাতেই প্রশাসনের এমন আতঙ্ক প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা মাত্র ২০০ জন মানুষ এনেছি, তাতেই ওরা ভয় পেয়েছে। লাখ লাখ মানুষ নিয়ে এলে কী হতো? বাংলা থেকে কেউ এলে আমরা রেড কার্পেট দিই, আর আমরা এলে ব্ল্যাক কার্পেট পাতা হয়!”
ঘটনাক্রমে, বক্তব্য রাখতে গিয়েই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় পুলিশের ব্যারিকেড দেখাতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট লড়াইয়ের বার্তা। মমতা স্পষ্ট জানান, এই আন্দোলন থামবে না। এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই আরও তীব্র হবে।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করা হবে। সেই বৈঠক থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের রূপরেখা জানানো হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর প্রশ্নে এই সংঘাত কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ককে আরও তীব্র করে তুলতে চলেছে।





