কলকাতা, ১৪ মেঃ কলকাতা হাই কোর্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান এবং বিক্ষোভের ঘটনায় মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিল্লি থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের সংস্কৃতি বিজেপির নয়। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী তৃণমূল কংগ্রেসই। ভোট-পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গ টেনে ফের শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “বিজেপি খুনের বদলে খুন বা চোখের বদলে চোখের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। পশ্চিমবঙ্গে এখন থেকে আইনের শাসন চলবে।” তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষকেই এখন বিজেপির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভোট-পরবর্তী অশান্তি নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, “তৃণমূলই তৃণমূলকে মারছে।” তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা ঘরে বসে শুধু বিবৃতি দিচ্ছেন এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলছেন। কিন্তু নিজেদের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে মাঠে নামছেন না। কারা এই অশান্তির পিছনে রয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।
শমীক আরও বলেন, “বিজেপি কোনও রকম অশান্তিকে প্রশ্রয় দেয় না। ৪ তারিখের পর যারা বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছে, তারা দলের কেউ নয়।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিজেপি দল এবং সরকার আলাদা ভাবে কাজ করবে। তাঁর কথায়, “দল সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।”
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইছেন। কিন্তু শাক ঢাকবেন কী দিয়ে?” ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সেই সময় ২৭ দিনের মধ্যে ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছিলেন। পাশাপাশি ২৭ জন বিজেপির মহিলা কর্মী প্রকাশ্যে এসে গণধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বিজেপি রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, সেই সময় জেসিবি দিয়ে বিরোধীদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং ভয়াবহ অত্যাচার চালানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, “তখন কোথায় ছিল আদালত? সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে শাসকের আইন চলত। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।”
কলকাতা হাই কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে হওয়া বিক্ষোভ এবং আদালত চত্বরে উত্তেজনার আবহ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ বলে দাবি করছে, অন্যদিকে বিজেপি পাল্টা অতীতের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলে শাসকদলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা ঘিরে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই আবহেই আদালত চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।





