হাওড়া, ১৬ জুলাই: ভরসন্ধ্যার ব্যস্ত রাস্তায় প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন রক্তাক্ত পরিণতি ডেকে আনল। প্রকাশ্য রাস্তায় এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার লড়াইয়ের পর মৃত্যু হয় কিশোরীর। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে ধরে বেধড়ক মারধর করে। তিনিও হাসপাতালে ভর্তি।
বুধবার সন্ধ্যায় আন্দুলের খটির বাজার-চাঁদনিবাগান এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরীর বাড়ি আন্দুলের দক্ষিণ মহিয়াড়ি চাঁদনিবাগান এলাকায়। অভিযুক্ত সমীর দাস (২৭)-এর বাড়ি বীরভূমের ময়ূরেশ্বরে। বর্তমানে তিনি হাওড়ার জালান কমপ্লেক্স এলাকায় কাজ করতেন। সেই সূত্রেই দু’জনের পরিচয় হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এই হামলা। তদন্তকারীদের দাবি, সম্পর্ক নিয়ে নাবালিকার উপর দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করছিল অভিযুক্ত। বুধবার সন্ধ্যায় রাস্তায় দু’জনের দেখা হলে প্রথমে বচসা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সমীর পকেট থেকে ছুরি বের করে কিশোরীকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে সে।
ঘটনা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন। উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে এবং পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সমীরকে। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিশোরীকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যু হয় তার।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডোমজুড় থানা ও হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত সুস্থ হলেই তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, প্রেমের সম্পর্কের জেরে নাবালিকার উপর জোরজবরদস্তির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





