দিনহাটা, ২০ জুনঃ বামনহাটের অদূরে পাথরসন এলাকায় শনিবার ভোরে রেললাইনের পাশ থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। আহত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ বর্মন (প্রায় ৩০)। তিনি বামনহাট দক্ষিণ লাউচাপড়া এলাকার হরিটপাটের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম পয়াতু বর্মন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় জোর জল্পনা এটি কি আত্মহত্যার চেষ্টা, নাকি ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনা? যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ পাথরসন এলাকার রেললাইনের ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় বিশ্বজিৎকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রতিদিনের মতো এদিনও সকাল ৫টার দিকে বামনহাট থেকে শিলিগুড়িগামী একটি ডিএমইউ প্যাসেঞ্জার ট্রেন ছেড়ে যায়। ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা রেললাইনের পাশেই গুরুতর জখম অবস্থায় বিশ্বজিৎকে দেখতে পান। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। শরীরের আরও কয়েকটি অংশেও চোটের চিহ্ন ছিল বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত স্থানীয়দের উদ্যোগে বিশ্বজিৎকে উদ্ধার করে বামনহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে তাঁকে আরও উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয় বলে জানা গিয়েছে।
পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে খাবার খাওয়ার পর বিশ্বজিৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু তারপর তিনি আদৌ বাড়ি ফিরেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই ঘটনাকে ঘিরে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিশ্বজিৎ কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। যদিও পরিবারের তরফে বা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা নিশ্চিত বক্তব্য সামনে আসেনি।
ঘটনার পর এলাকায় প্রথমে আত্মহত্যার চেষ্টার জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনেকেই মনে করছেন, ট্রেন যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। আবার অন্য কোনও কারণও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে গোটা ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে, তা এখন তদন্তসাপেক্ষ বলেই মনে করছে স্থানীয় মহল।
এই ঘটনায় বামনহাট এলাকায় উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রেললাইনের ধারে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে বিশ্বজিৎ গুরুতর জখম হলেন, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলে গোটা ঘটনার সূত্র খুঁজে দেখার চেষ্টা চলছে। আপাতত যুবকের শারীরিক অবস্থার দিকেই নজর সকলের।






