শিলিগুড়ি, ২০ জুনঃ বাঙালির পারিবারিক উৎসবের ক্যালেন্ডারে জামাই ষষ্ঠী এক বিশেষ আবেগের নাম। মা-মেয়ের সম্পর্কের পাশাপাশি শাশুড়ি-জামাইয়ের স্নেহ, আদর এবং আন্তরিকতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে এই দিন। সেই আবেগ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়েই রবিবার সকাল থেকে শিলিগুড়ির বিভিন্ন মন্দিরে দেখা গেল শাশুড়িদের উপচে পড়া ভিড়। হাতে পুজোর ডালা, ফুল, ফল, মিষ্টি ও নানা উপাচার নিয়ে তাঁরা হাজির হন দেবীর মন্দিরে। একটাই প্রার্থনা জামাইয়ের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ জীবন, সুখ-সমৃদ্ধি এবং গোটা পরিবারের মঙ্গল।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ষষ্ঠী দেবীর আরাধনায় সন্তানের কল্যাণের পাশাপাশি সংসারে শান্তি, সমৃদ্ধি ও শুভ শক্তির আগমন ঘটে। সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই বছরের পর বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে জামাই ষষ্ঠীর পুজো। আজও বহু বাঙালি পরিবারে এই রীতি একই নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে পালন করা হয়। বিশেষ করে শাশুড়িরা এই দিনে উপোস থেকে বা নিয়ম মেনে পুজো দিয়ে জামাইয়ের মঙ্গল কামনা করেন।
শিলিগুড়ির মন্দির চত্বরে এদিন সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কোথাও শোনা গেল শঙ্খধ্বনি, কোথাও বা পুজোর মন্ত্রোচ্চারণ। পুজো দিতে আসা মহিলাদের অনেকে জানান, এটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক রীতি নয়, বরং পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার এক আবেগঘন বহিঃপ্রকাশ। তাই প্রতি বছরই এই দিনটির জন্য তাঁরা অপেক্ষা করে থাকেন।
পুজো শেষে বাড়ি ফিরে জামাইকে পছন্দের খাবার দিয়ে আপ্যায়নেরও প্রস্তুতি নেন শাশুড়িরা। ইলিশ, চিংড়ি, পোলাও, মাংস, পায়েস থেকে শুরু করে একাধিক বাঙালি পদে সাজানো হয় ভুরিভোজের আয়োজন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় জীবনযাত্রা বদলালেও, বাঙালির পারিবারিক সংস্কৃতির এই মধুর উৎসব আজও একইভাবে আবেগ, ভালোবাসা ও ঐতিহ্যের বন্ধনকে অটুট রেখেছে।






