কলকাতা, ১৪ আগস্টঃ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে বিতর্কের কেন্দ্রে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহারের পর সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো বার্তায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি। কিন্তু তাতেই যে বিতর্কের ইতি নয়, তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ভবানীপুরে যুবশক্তি কাপের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনন্তের ক্ষমাপ্রার্থনাকে ইতিবাচক ভাবে দেখা উচিত হলেও, ‘‘উনি ক্ষমার অযোগ্য কথা বলেছেন।’’
নেতাজি সম্পর্কে মন্তব্যের পর অনন্তের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মোট ছ’টি এফআইআর হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁর বক্তব্য ঘিরে সমাজমাধ্যমেও শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই মন্তব্য সংক্রান্ত ১৮২টি পোস্ট ইতিমধ্যেই মুছে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টও ডিলিট করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনন্তের মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত তাঁর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি দাবি করেন, শুধু গান্ধী, নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই দেশ স্বাধীন হয়নি। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে আজাদ হিন্দ ফৌজ এবং নেতাজিকে নিয়েও একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ।
এর পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, নেতাজিকে অপমান করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। তার পরেই রাজ্য সরকারের তরফে অনন্তের বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করা হয়।
প্রথমে অবশ্য নিজের বক্তব্যের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন অনন্ত। তাঁর দাবি ছিল, তিনি ইতিহাসের কথাই তুলে ধরেছেন, নেতাজিকে অপমান করেননি। কিন্তু পরে সুর বদলে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।
সেই প্রসঙ্গেই শুভেন্দু বলেন, ‘‘ভিডিয়ো পোস্ট করে দুঃখপ্রকাশ করেছে দেখলাম। উনি পরবর্তীতে এহেন আচরণ করবেন না বলেছেন। বিষয়টা আমাদের ইতিবাচক ভাবেই দেখা উচিত।’’ তবে সুর নরম করেও শেষ পর্যন্ত সতর্কবার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্যের গুরুত্ব কোনও ভাবেই হালকা করে দেখার নয়।





