মালদা, ১৬ ফেব্রুয়ারিঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ মালদা লোকসভা এলাকার ছয় তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চার্জশিট’ পেশ করল বিজেপি। সোমবার মালদা সদর কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এই চার্জশিট প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
যে ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলি হল মানিকচক, বৈষ্ণবনগর, ফারাক্কা, মোথাবাড়ি, সুজাপুর ও সামসেরগঞ্জ। বিজেপির দাবি, উন্নয়ন ব্যাহত হওয়া, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। তৃণমূল বিধায়কদের কাছে এসব বিষয়ে জবাবও চাওয়া হয়েছে বলে জানান সুকান্ত মজুমদার।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ‘যুব সাথী’ প্রকল্প নিয়েও কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রকল্পের লাইনে বেকার যুবক-যুবতীদের ভিড় দেখা গেলেও “তৃণমূলের বেকার নেতাদের দেখা যাচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, অভিষেক ব্যানার্জী-র হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে যে তাঁর কোনও বাড়ি বা গাড়ি নেই এবং তিনি কোনও চাকরিও করেন না। “তাঁর বয়সও ৪০-এর মধ্যে। সবার আগে তাঁরই লাইনে দাঁড়িয়ে দেড় হাজার টাকা নেওয়া উচিত,”—এভাবেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে কটাক্ষ করেন সুকান্ত।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, সীমান্তের ওপার-এপার উভয় দিকেই ‘জামাতের প্রভাব’ বাড়ছে। যদিও এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এছাড়া বিজেপির আসন্ন রথযাত্রা কর্মসূচি নিয়েও তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়েই তা অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে রাজ্যের ন’টি সাংগঠনিক বিভাগে ন’টি বড় সভা হবে, যেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন।
কাটোয়ায় ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাতেও প্রতিক্রিয়া দেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর মতে, “কাটোয়ার মানুষ মালদা, সামসেরগঞ্জ, মুর্শিদাবাদের দাঙ্গাকারীদের দেখে শিখছে।” যদিও এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সমগ্র ঘটনায় তৃণমূলের তরফে পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে নির্বাচনের আগে এই চার্জশিট ইস্যুতে দক্ষিণ মালদার রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত হবে, তা বলাই যায়।





