কলকাতা, ১৬ মার্চঃ আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে বাংলায়। সোমবার প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। আর সেই তালিকাতেই বড় চমক রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে জোড়া আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি লড়বেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে। ফলে আবারও সম্ভাব্য মুখোমুখি সংঘর্ষের ইঙ্গিত মিলছে তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-র সঙ্গে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রকে ঘিরে মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ গোটা দেশের নজর কেড়েছিল। সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। তার পর কেটে গিয়েছে পাঁচ বছর। এবার ২০২৬-এর নির্বাচনে আবারও নন্দীগ্রামে লড়াইয়ের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব কেন্দ্র ভবানীপুরেও প্রার্থী হয়ে কার্যত সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বিজেপি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটি বিজেপির কৌশলগত পদক্ষেপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখাই লক্ষ্য পদ্মশিবিরের। ফলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা বলেই মনে করা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তকে।
তবে অন্যদিকে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ভবানীপুর মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। জন্ম থেকে রাজনৈতিক উত্থান সবকিছুর সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই কেন্দ্র। তাই সেখানে শুভেন্দুর প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বিজেপির জন্য বুমেরাং হতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।
সব মিলিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা-শুভেন্দু সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াইকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বঙ্গ রাজনীতির ময়দান।





