খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১ ফেব্রুয়ারিঃ গোমাংস পরিবেশন সংক্রান্ত বিতর্কে এবার আইনি জটে পড়লেন টলিপাড়ার পরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার সায়েক চক্রবর্তী। শনিবার রাতে তাঁর বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জয়রাজ ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি। রাতেই সোশাল মিডিয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে অভিযোগকারী জানান, ফেসবুকে পোস্ট নয়, সরাসরি থানায় গিয়েই তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। পার্ক স্ট্রিটের একটি নামী রেস্তরাঁয় বন্ধুদের সঙ্গে নৈশভোজে গিয়ে অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন সায়েক চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, পাঁঠার মাংস অর্ডার করা হলেও তাঁদের টেবিলে গরুর মাংসের স্টেক পরিবেশন করা হয়। বিষয়টি জানার পরই ক্ষুব্ধ হয়ে পার্ক স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন সায়েক। এই অভিযোগ সামনে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
যদিও অনেকেই ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত বলে মেনে নিয়েছেন, তবে সায়েকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন টলিপাড়ার একাংশ শিল্পী ও নেটিজেনরা। তাঁদের অভিযোগ, পুরো বিষয়টি পরিকল্পনামাফিক ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা। পাশাপাশি, রেস্তরাঁ কর্মীর সঙ্গে হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে রেস্তরাঁ কর্মীর বিরুদ্ধে যদি মামলা হয়, তবে সায়েকের বিরুদ্ধেও কেন আইনি পদক্ষেপ হবে না?
এই আবহেই শনিবার রাতে জয়রাজ ভট্টাচার্য পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সায়েকের অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হন রেস্তরাঁ কর্মী শেখ নাসিরউদ্দিন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। আদালতে তোলা হলে ধৃত কর্মীর জামিন মেলেনি।
এদিকে বিতর্ক আরও জোরদার হওয়ার মাঝেই ঘটনার দিন সায়েকের সঙ্গে উপস্থিত দুই বন্ধুর মধ্যে একজন সোশাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভুল খাবার পরিবেশন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল ঠিকই, তবে কোনও ধর্মীয় উসকানি দেওয়া হয়নি এবং গোটা ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। গোমাংস বিতর্কে এভাবেই ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।





