খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ জানুয়ারিঃ চেন্নাইতে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হল বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক আলমগির আলমের(২৯)। দীর্ঘ আটদিন নিখোঁজ থাকার পর চেন্নাইয়ের একটি রেলস্টেশনের পরবর্তী স্টেশনের কাছাকাছি রেললাইনের ধারে জঙ্গল থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। মৃত যুবকের বাড়ি মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত মশালদহ বাজার এলাকায়। ঘটনার খবর সামনে আসতেই পরিবার খুনের অভিযোগ তুলেছে এবং সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজের সূত্রে চেন্নাইয়ে ছিলেন আলমগির। প্রায় ৯ দিন আগে নতুন একটি কাজের জন্য তাঁর হায়দরাবাদ যাওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী তিনি চেন্নাই থেকে হায়দরাবাদের উদ্দেশ্যে ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনে ওঠার ঠিক আগেই স্ত্রী হাবানুর খাতুনের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তাঁর। কিন্তু তারপর থেকেই আচমকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফোন বন্ধ থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবার ও সহকর্মীরা।
আলমগিরের ভাই আবু সামা জানান, দাদার সহকর্মীরা স্থানীয় থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন। টানা আটদিন কোনও খোঁজ মেলেনি। শেষ পর্যন্ত যে স্টেশন থেকে আলমগির ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তার পরবর্তী স্টেশনের কাছেই রেললাইনের ধারে জঙ্গল থেকে দেহ উদ্ধার হয়। দেহের অবস্থা দেখে পরিবার নিশ্চিত, এটি দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত খুন।
বুধবার রাতে এই খবর মালদহে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা পরিবারে। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী হাবানুর খাতুন। আলমগিরই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে পড়েছেন তিনি। চেন্নাই থেকে দেহ বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছে পরিবার। স্থানীয় প্রশাসন পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসীরাও।





