নিজস্ব সংবাদদাতা, ২০ জুলাইঃ দলের অন্দরের সংঘাতের আবহে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ ‘কালীঘাট’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এ বার ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগ তুললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, যাঁদের অর্থ ছিল, তাঁরাই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আর গোটা প্রক্রিয়াই হয়েছিল তৎকালীন নেতৃত্বের মদতে।
রবিবার মালদহের চাঁচলে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে প্রসূন বলেন, “যাঁরা জেলার প্রার্থীদের টিকিট দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা টিকিট বিক্রি করেছিলেন। মালদহের বাচ্চারাও বিষয়টি জানে। বহু নিষ্ঠাবান কর্মী টাকা দিয়ে টিকিট কেনার সামর্থ্য না থাকায় কিংবা এই সংস্কৃতির বিরোধিতা করায় কার্যত পিছিয়ে পড়েন।”
যদিও তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উচ্চারণ করেননি, তবে ‘ক্যামাক স্ট্রিটের সঙ্গে জেলার নেতাদের যোগসাজশ’-এর প্রসঙ্গ তুলে অভিযোগের তির স্পষ্টভাবেই তৎকালীন দলীয় নেতৃত্বের দিকে ঘুরিয়ে দেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে অর্থের প্রভাবই ছিল সবচেয়ে বড় নির্ধারক।
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, শহিদ দিবসের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর তিনি দলের ভিতরে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার দাবি তুলবেন। পাশাপাশি টিকিট বণ্টন সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদনও জানাবেন। ভবিষ্যতে প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন তিনি।
এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন প্রসূন। সেই অভিযোগের তদন্ত দাবি করার পর এ বার পঞ্চায়েত ভোটে দুর্নীতির অভিযোগও সামনে আনলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ‘নবজোয়ার’ কর্মসূচির মাধ্যমে জেলা সফর করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাছাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সেই তালিকাতেই অনুমোদন দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসূনের অভিযোগ ঘিরে দলের অন্দরে নতুন বিতর্ক তৈরি হলেও, এই বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।





