কলকাতা, ১৪ জুলাইঃ শিল্পায়নের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নেও আপস নয়। উন্নয়ন আর সবুজ দুইকে সমান গুরুত্ব দিয়েই এগোতে চায় রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। সেই বার্তাই মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতান থেকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘অরণ্য সপ্তাহ’-এর সূচনা উপলক্ষে নিজের হাতে গাছ লাগিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, শুধু প্রতীকী কর্মসূচি নয়, আগামী দিনে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণই হবে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাওয়ের উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলপড়ুয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয় ১ কোটি ১০ লক্ষ চারাগাছ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই উদ্যোগ বলে জানায় রাজ্য সরকার। লক্ষ্য, সাধারণ মানুষ থেকে ছাত্রছাত্রী সকলকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের অংশ করে তোলা।
বনবিতানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, “এ বছর রাজ্যে ৭ লক্ষ ২০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেকের হাতে একটি করে চারাগাছ তুলে দেওয়া হয়েছে। গাছ লাগানো শুধু সরকারি প্রকল্প নয়, এটা সামাজিক দায়িত্ব।”
পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বনদপ্তরের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বনদপ্তরে কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই সেই শূন্যপদ পূরণ করা হবে। নতুন করে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে। বনকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করুন। নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার দেখবে।”
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বজ্রপাতের প্রসঙ্গও টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পরামর্শ, “বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে বেশি করে নারকেল গাছ লাগান।” পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বজ্রপাতের মতো জটিল প্রাকৃতিক ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনও গাছকে সমাধান হিসেবে দেখার বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে বেশি করে গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়াই ছিল মুখ্যমন্ত্রীর মূল বার্তা।
মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা। ২০ জুলাই পর্যন্ত চলবে ‘অরণ্য সপ্তাহ’। সরকারের আশা, এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে যাবে মানুষের ঘরে ঘরে।





