কলকাতা, ১৬ জানুয়ারি: কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন, কল্পিত ও মানহানিকর’ বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এই মামলাটি দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু নিজেই। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যার জবাব আদালতেই দেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, কয়লা কেলেঙ্কারিতে তাঁর নাম জড়িয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নোটিসের কোনও জবাব মেলেনি বলেই অভিযোগ তাঁর। বিরোধী দলনেতার কথায়, এই নীরবতা ‘প্রতারণামূলক’ এবং তা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। তাই শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, তিনি আগেই জানিয়েছিলেন যে প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীকে আদালতে টানবেন। সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করছেন। তাঁর কটাক্ষ, “আমি কথা দিয়ে কথা রাখি। মুখ্যমন্ত্রীর উচিত দ্রুত তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা। নইলে খুব শিগগিরই আমাকে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।” যদিও এই ক্ষতিপূরণের দাবি আদৌ মামলার অংশ কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট নয়।
রাজনৈতিক মহলে এই মামলা ঘিরে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে মানহানির মামলা নতুন নয়। বিশেষ করে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও প্রয়াত অরুণ জেটলির মধ্যে দীর্ঘদিন চলা মানহানির মামলা এখনও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত উদাহরণ। সেই প্রেক্ষাপটেই শুভেন্দুর এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
অন্যদিকে, শুভেন্দুর দায়ের করা মামলা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চায়নি। দলের একাংশের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী নিজে যখন অভিযোগ করেছেন, তখন দলের মুখপাত্রদের আলাদা করে বলার কিছু নেই। এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এই মামলার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, কয়লা কেলেঙ্কারি ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবার আইনি লড়াইয়ের পথে গড়াল। আদালতের রায়ে এই রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।





