কলকাতা, ১১ মেঃ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পগুলি কি বন্ধ হয়ে যাবে ? সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সেই জল্পনায় কার্যত ইতি টানলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হবে না। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বতন সরকারের আমলে চালু হওয়া জনমুখী প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের স্বার্থে চালু থাকবে। তবে প্রকল্পগুলির উপভোক্তা তালিকা পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্য, “কোনও মৃত ব্যক্তি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি কোনও ‘অভারতীয়’ নাগরিককেও সামাজিক প্রকল্পের আওতায় রাখা হবে না।”
তৃণমূল সরকারের আমলে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা দুটি প্রকল্প ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্যসাথী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পেতেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দেওয়া হত। নতুন সরকার এই প্রকল্পগুলি চালু রাখার আশ্বাস দেওয়ায় স্বস্তিতে বহু উপভোক্তা।
সোমবারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে অন্যতম হল রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ। এছাড়া সীমান্ত সুরক্ষায় আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে কাঁটাতারের জন্য জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিন রাজ্যকে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণাও করা হয়েছে। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প এবার বাংলাতেও কার্যকর হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আইন ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ থেকেই রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এতদিন অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি চালু ছিল বাংলায়। এছাড়াও সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমার ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের আগেই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সকালে তিনি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজ্যে শান্তি, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতেই এই বৈঠক বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।




