কলকাতা, ৫ নভেম্বরঃ দুর্গাপুজোর পাস বিলি ঘিরে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই জটিল হচ্ছে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে থাকা আর্থিক লেনদেনের হিসাব। এ বার লালবাজারের গোয়েন্দাদের মুখোমুখি হলেন তাঁর মেয়ে আভেরি সেন। গত কয়েক দিন ধরে একাধিক বার তলব এড়ানোর পর বৃহস্পতিবার তদন্তকারীদের সামনে হাজির হন তিনি। অন্য দিকে, এই মামলায় ইন্দ্রনীলের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর সেক্রেটারি ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের নজরে মূলত অর্থের লেনদেন। পুলিশের দাবি, ইন্দ্রনীলের সংস্থা মাস আর্ট থেকে পুজোর পাস সংক্রান্ত দুর্নীতির টাকা তাঁর মেয়ের সংস্থার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। একই ভাবে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মছনন্দা সেনের অ্যাকাউন্টেও টাকা যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে বলে তদন্ত সূত্রে খবর। ইতিমধ্যে মছনন্দাকে কয়েক দফায় জেরা করেছেন গোয়েন্দারা। জেরায় তিনি স্বামীকে এ ভাবে টাকা তুলতে নিষেধ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন, এমন দাবিও সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষিতে আভেরির বয়ানকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। তাঁর সংস্থার অ্যাকাউন্টে কী কারণে এবং কোন সূত্রে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা পড়েছিল, তা জানতে চান তাঁরা। প্রয়োজনে বাবার মুখোমুখি বসিয়েও তাঁকে জেরা করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এ দিকে, ধ্রুবজ্যোতি বসুর আগাম জামিনের আবেদন সম্প্রতি খারিজ হয়েছিল হাই কোর্টে। তার পর থেকেই তাঁর খোঁজ চলছিল। বুধবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মধ্য কলকাতার পোদ্দার কোর্টের কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত চান সরকারি আইনজীবী। তাঁর দাবি, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। মামলায় এক জনের গোপন জবানবন্দি নেওয়ার কথাও আদালতে জানানো হয়।
অন্য দিকে, ধ্রুবজ্যোতির আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল ইমেলের মাধ্যমে হাজিরা দিয়েছিলেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন। তাঁকে কেআইটি বিল্ডিং থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলেও আদালতে জানান তিনি। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ধ্রুবজ্যোতিকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এক দিকে আভেরির বয়ান, অন্য দিকে ধ্রুবজ্যোতির জেরা দুই সূত্র ধরেই পুজোর পাস দুর্নীতির অর্থের উৎস ও গন্তব্যের হদিস পেতে চাইছে লালবাজার।





