উত্তর ২৪ পরগনা, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ রাতেও ছিলেন ডিউটিতে। কাজ শেষে ফিরেছিলেন থানার ব্যারাকে নিজের ঘরে। সকাল হতেই সেই ঘর থেকেই উদ্ধার হল হাবড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর বিশ্বনাথ সেনের ঝুলন্ত দেহ। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। সাড়া মিলছিল না ফোনেও। শেষ পর্যন্ত সহকর্মীরাই দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাঁকে উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশকর্মীর এই অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে কী ঘটেছিল রাতে?
উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থানার ঘটনা। মৃত এসআই বিশ্বনাথ সেনের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায়। কর্মসূত্রে হাবড়ায় থাকতেন তিনি। থানার ব্যারাকেই তাঁর জন্য নির্দিষ্ট একটি ঘর ছিল। রবিবার রাতে ডিউটি সেরে সেখানেই ফিরে যান বিশ্বনাথ।
থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও ঘর থেকে তাঁর কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রথমে সহকর্মীদের মনে হয়েছিল, হয়তো ঘুমোচ্ছেন। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পরেও দরজা না খোলায় সন্দেহ হয়। মোবাইলে ফোন করা হয়। তাতেও সাড়া মেলেনি। এরপর দরজায় ধাক্কা দেওয়া হলেও ভিতর থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন সহকর্মীরা। সেখানেই বিশ্বনাথকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানান, ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ছুটি পাওয়া নিয়ে কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না, কর্মক্ষেত্রে কোনও চাপ ছিল কি না এমন একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদিও সহকর্মীদের বক্তব্য, রবিবার রাতেও বিশ্বনাথের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়েনি। পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে কী কী তথ্য মেলে, এখন সেদিকেই নজর।





