শিলিগুড়ি, ২০ মে: উত্তরবঙ্গে পৌঁছেই জিটিএ-র কাজকর্ম ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসন-এ কীভাবে কাজ হয়েছে, কতটা উন্নয়ন হয়েছে এবং কোথায় কী খরচ হয়েছে সেই সমস্ত ফাইল এবার খতিয়ে দেখা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ-তে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ একাধিকবার উঠেছিল। বিজেপির অভিযোগ, সেই সময় উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম হলেও সেগুলি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। এবার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির তদন্তে জোর দেওয়া হচ্ছে বলেই দাবি প্রশাসনের একাংশের।
এর আগেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক উত্তরকন্যায় গিয়ে একাধিক প্রকল্পের ফাইল খতিয়ে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বহু কাজ শুধুমাত্র কাগজে-কলমে হয়েছে। এমনকি একাধিক ঠিকাদার সংস্থাকে ব্ল্যাকলিস্টেড করার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে একদিন উত্তরকন্যায় বসে উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন মন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্যই জিটিএ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যে কতটা কাজ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তৃণমূল আমলে অনিত থাপা ও বিমল গুরুং-সহ পাহাড়ের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের উন্নয়ন না করে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত ছিলেন।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই জিটিএ ইস্যুতে সরব হয়েছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতা বিমল গুরুং। সম্প্রতি স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ‘লালকুঠি’ ঘেরাও অভিযানের ডাকও দিয়েছিলেন তিনি। যদিও পর্যটনের মরশুমের কথা মাথায় রেখে সেই কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর জিটিএ ফাইল খোলার ঘোষণার পর পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





