দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ২৪ অক্টোবরঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরে কড়া নিরাপত্তা। চারদিকে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের নজরদারি। সেই ঘেরাটোপের মধ্যেই হাতে গীতা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন এক বৃদ্ধ। বয়স ৯০ বছর। একবার সামনে থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দেখবেন, তাঁর হাতে তুলে দেবেন পবিত্র গীতা এই ছিল একমাত্র ইচ্ছা। শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধকে দেখে গাড়ি থামালেন মুখ্যমন্ত্রী। কাছে ডেকে নিলেন তাঁকে। পূরণ হল দীর্ঘ অপেক্ষার সাধ। আবেগে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না বৃদ্ধ।
কাকদ্বীপের আট নম্বর নর থেকে এসেছিলেন জ্ঞানেন্দ্র সরকার। পরনে গেরুয়া বসন, হাতে একটি ব্যাগ। সেই ব্যাগেই যত্ন করে রাখা গীতা। মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার জন্যই সেটি সঙ্গে এনেছিলেন তিনি। শনিবার কাকদ্বীপের রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন শুভেন্দু। তাঁর গাড়ি রবীন্দ্র ভবনে ঢোকার মুখে নজরে পড়েন জ্ঞানেন্দ্রবাবু।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছনোর সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল বৃদ্ধের। কিন্তু তাঁকে দেখে গাড়ি থামিয়ে দেন শুভেন্দু। নিরাপত্তারক্ষীদের মাধ্যমে বৃদ্ধকে কাছে ডেকে পাঠান তিনি। এত কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন জ্ঞানেন্দ্রবাবু। তাঁর হাতে তুলে দেন গীতা।
বৃদ্ধের দেওয়া উপহার গ্রহণ করে কপালে ঠেকান মুখ্যমন্ত্রী। জ্ঞানেন্দ্রবাবুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “ভালো থাকুন। আশীর্বাদ করুন।” মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সামনাসামনি দেখা, তাঁর হাতে নিজের পছন্দের উপহার তুলে দেওয়া সব মিলিয়ে আবেগে ভেসে যান নবতিপর বৃদ্ধ। চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। মুহূর্তের এই সাক্ষাৎই তাঁর কাছে হয়ে ওঠে বিশেষ প্রাপ্তি।
এদিন রবীন্দ্র ভবনে পৌঁছনোর পর মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন তিনি। প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি পাথরপ্রতিমার তৃণমূল বিধায়ক সমীর জানা, মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার এবং গোসাবার বিজেপি বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর।
আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির বাইরে, ৯০ বছরের জ্ঞানেন্দ্র সরকারের হাতে গীতা নিয়ে অপেক্ষা এবং মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি থামিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার মুহূর্তটিই হয়ে রইল কাকদ্বীপের এই সফরের এক আবেগঘন ছবি।





