ক্যানিং, ২৪ অক্টোবরঃ পুজো মিটতেই ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের বাড়িতে পুলিশের হানা। কিন্তু বাড়িতে পাওয়া গেল না বিধায়ককে। তাঁর সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে দাবি। এর মধ্যেই বিধায়কের বাড়ি থেকে তৃণমূলের এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান-সহ চার জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসা, মারধর, তোলাবাজি ও ভাঙচুরের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের অভিযানের আগেই কি এলাকা ছেড়েছেন বিধায়ক? যদিও তাঁর নিখোঁজ থাকার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শিলাদিত্য রায়। বাকি তিন জনও তৃণমূলের স্থানীয় নেতা বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতেই শুক্রবার বারুইপুর জেলা পুলিশ ও ক্যানিং থানার পুলিশ যৌথ ভাবে বিধায়কের বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়ির চারপাশ ঘিরে রাখেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। কিন্তু দীর্ঘ তল্লাশিতেও বিধায়কের সন্ধান মেলেনি বলে খবর।
পরেশরামকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে দাবি। এর পরেই তাঁর চার অনুগামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের শনিবার আলিপুর আদালতে পেশ করার কথা। অন্য দিকে, বিধায়কের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে।
পরেশরামকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে বিরোধীদের উপর হামলা, বোমাবাজি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসার পর তদন্তে নামে সিআইডি। ওই মামলার সূত্রে গত মাসে ভবানীভবনে হাজিরাও দিয়েছিলেন বিধায়ক বলে দাবি। গ্রেফতারি এড়াতে আলিপুর আদালতে দু’বার জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।
তবে বিধায়কের বাড়িতে পুলিশের হানা এবং তাঁর অনুপস্থিতির মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। এদিকে, চার তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিকে ঘিরে ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত পরেশরামের খোঁজ মেলেনি বলে দাবি। তাঁর অবস্থান এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সকলের।





