কোচবিহার, ২৪ অক্টোবরঃ বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোম চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হন পরিবারের সদস্যেরা। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দু’দিন আগে পেটের ব্যথা নিয়ে ওই রোগীকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। এমনকি, সন্ধ্যা পর্যন্ত রোগীর পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ উদ্বেগের কোনও খবরও তাঁদের কাছে ছিল না বলে দাবি পরিবারের।
অভিযোগ, গতকাল রাতে হঠাৎই নার্সিংহোম থেকে ফোন করে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানানো হয়। খবর পেয়েই রোগীর আত্মীয়স্বজন দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা রোগীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। কীভাবে আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি হল, কেনই বা মৃত্যু হল এই প্রশ্ন তুলেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা। এর পরেই হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আসা প্রয়োজন। তবে চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, রোগীর শারীরিক অবস্থার বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা জরুরি। রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরিবারের অভিযোগের সত্যতা দু’টি বিষয়ই এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ঘটনার জেরে কোচবিহার শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।




