হাওড়া, ২১ অক্টোবরঃ চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে গিয়ে ফের রাজনৈতিক আক্রমণের পথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিকেলে হাওড়ার লিলুয়ার আনন্দনগর বিদ্যাসাগরপল্লিতে মৃত আকৃতি কুমারীর বাড়িতে যান তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। পরিবারের এক সদস্যকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেন। কিন্তু সেই সফরের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সিপিএম-সহ বামপন্থীদের নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “আরশোলা, ছাড়পোকা আর ওই নাস্তিক কমিউনিস্ট, এদের আমরা বুঝে নেব।”
চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রাণহানির পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ধারাবাহিকতায় এ দিন লিলুয়ায় আকৃতির বাড়িতে পৌঁছন তিনি। শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি পরিবারের এক সদস্যের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, “নরেন্দ্র মোদি আমাদের শিখিয়েছেন কথা কম বল, কাজ বেশি করে। আমরা এখন সেটাই করছি।”
তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর নিশানায় ছিল বিরোধী শিবিরও। তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থাকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দলটি একাধিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত। তাঁর মন্তব্য, তৃণমূলের তিনটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। যদিও এই দাবি নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বিদেশি শক্তির প্রসঙ্গে করা মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সিপিএম-সহ বামপন্থীদের আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর ব্যবহৃত শব্দচয়ন রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
এদিন লিলুয়ায় ডোমজুড়ের তৃণমূল বিধায়ক তাপস মাইতির উপস্থিত না থাকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধায়ক তাঁকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন এবং এলাকায় আসতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ যা বলবে, সেই অনুযায়ী চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তিকে ঘিরে এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তিনি চাননি।
চোরবাগানের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক আক্রমণ ফের রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে সামনে নিয়ে এল। এক দিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের আশ্বাস, অন্য দিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষা দুইয়ের মিশেলেই আলোচনায় লিলুয়ার এই সফর।





