কোচবিহার, ২৪ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই কোচবিহারের রাজপরম্পরায় শুরু হয়ে গিয়েছে আর এক উৎসবের প্রস্তুতি। মদনমোহন মন্দির চত্বরে অবস্থিত কাঠামিয়া মন্দিরে কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী মহালক্ষ্মী পুজো। রাজআমলের প্রাচীন রীতি মেনেই এ বারও পুজোর আয়োজন। মন্দিরের ভিতরে চলছে প্রতিমা নির্মাণের কাজ। সেই কাজ শেষ হলেই শুরু হবে রং করার পালা। পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যস্ততা তুঙ্গে।
বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজোয় দেবীর পাশে দেখা যায় তাঁর বাহন পেঁচাকে। কিন্তু কোচবিহারের কাঠামিয়া মন্দিরের মহালক্ষ্মী সেখানে একেবারেই ব্যতিক্রমী। এখানে দেবী চতুর্ভুজা। গায়ের রং লালচে। তাঁকে ঘিরে রয়েছে শুঁড় উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা চারটি হাতি। এই বিশেষ প্রতিমার রূপই কাঠামিয়া মন্দিরের মহালক্ষ্মী পুজোকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। শুধু মহালক্ষ্মী নন, একই দিনে এখানে পূজিত হন দেবরাজ ইন্দ্রও। হাতির পিঠে অধিষ্ঠিত ইন্দ্রদেবের পুজোও এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কোচবিহারের রাজপরিবারের পুজো-পার্বণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন রীতি ও আচার। বড়দেবী ও কাঠামিয়া মন্দিরের দুর্গাপুজোর মতো মহালক্ষ্মী পুজোতেও সেই পরম্পরা বজায় রয়েছে। পুজোর অন্যতম বিশেষ আচার এক জোড়া পায়রা বলি। বলি পর্বের পরে অনুষ্ঠিত হয় যজ্ঞ। পাশাপাশি দেবীকে নিবেদন করা হয় পরমান্ন, পঞ্চব্যঞ্জন-সহ নানা পদ।
রাজপুরোহিত জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যায় মহালক্ষ্মীর পুজো অনুষ্ঠিত হবে। মহারাজাদের আমল থেকে চলে আসা রীতি মেনেই এ বারও পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। দেবী মহালক্ষ্মীর পাশাপাশি পুজো করা হবে ইন্দ্রদেবেরও।
সময়ের সঙ্গে উৎসবের আয়োজনের ধরন বদলালেও কাঠামিয়া মন্দিরের মহালক্ষ্মী পুজোয় প্রাচীন আচার ও প্রতিমার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আজও অটুট। কোচবিহারের রাজঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই পুজো তাই নিছক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রতিমা নির্মাণের শেষ পর্যায়ের কাজ ঘিরে এখন মন্দিরে ব্যস্ততা। পুজোর সন্ধ্যায় ঐতিহ্যের সেই ধারাই আরও এক বার ফিরে দেখার অপেক্ষায় কোচবিহার।




