কলকাতা, ২৪ অক্টোবরঃ জানুয়ারিতেই গঙ্গাসাগর মেলা। তার আগে প্রস্তুতির জমি খতিয়ে দেখতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পর জনসভা থেকে তাঁর ঘোষণা, গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে চায় রাজ্য সরকার। পাশাপাশি সুন্দরবনের উন্নয়নে আরও জোর দেওয়ার বার্তা, মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের সময়সীমা এবং নাগরিকত্বের শংসাপত্র বিলি নিয়েও একাধিক ঘোষণা করলেন তিনি। একই সঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়নের নামে দুর্নীতি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও তুললেন মুখ্যমন্ত্রী।
কাকদ্বীপের প্রশাসনিক বৈঠকে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলায় রূপান্তরিত করার জন্য আমরা এখানে এসেছি।” রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে বিজেপি সরকারের অধীনে এই প্রথম গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজন হতে চলেছে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মেলার স্বীকৃতি বা তাকে কুম্ভমেলার সমতুল করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা তিনি ঘোষণা করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সুন্দরবনের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সুন্দরবনের ১৩টি ব্লকের উন্নয়নে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হয়েছে। সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়নের বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে খরচ না করার অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, উন্নয়নের কাজে বরাদ্দ অর্থের বড় অংশ খরচ না করে কাটমানি নেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে সভায় বিস্তারিত নথি তুলে ধরেননি তিনি।
দীর্ঘদিনের দাবি মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণ নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, ২০২৯ সালের মধ্যে সেতুর উদ্বোধন করা হবে। আগামী ১০ জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধন করতে ফের কাকদ্বীপে আসার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় আবেদনকারীদের শংসাপত্র পাওয়া নিয়ে অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। দ্রুত শংসাপত্র বিলির ব্যবস্থা করতে জেলাশাসক ও মহকুমাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতির পাশাপাশি সুন্দরবনের উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং নাগরিকত্বের প্রশ্ন সব মিলিয়ে কাকদ্বীপের সভা থেকে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।





