কলকাতা, ৮ জানুয়ারিঃ দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন। তার ঠিক আগেই ইডি অভিযানে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার ভোর সাত সকালেই ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের সল্টলেকের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।
ইডির এই অভিযানের খবর ছড়াতেই পরিস্থিতি দ্রুত রাজনৈতিক রং নেয়। তল্লাশি চলাকালীনই বিপুল পুলিশ বাহিনী নিয়ে প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে সেখানে যান কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মাও। কিছুক্ষণ প্রতীক জৈনের বাড়িতে থাকার পর মুখ্যমন্ত্রী হাতে একটি মোটা ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর তিনি সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরেও যান এবং সেখান থেকেও বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করেন।
সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ওই সমস্ত নথি তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব দলের কাগজপত্র এবং নির্বাচনী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাঁর অভিযোগ, ইডি তল্লাশির নামে দলের নির্বাচনী ডেটা ও কৌশল বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই অভিযান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখেই তৃণমূলকে বিপাকে ফেলতে এই পদক্ষেপ।
তবে এই ঘটনায় পাল্টা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। ইডির দাবি, আইপ্যাকের দফতর ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় তদন্তকারীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এদিন বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে এবং শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের, অন্যদিকে ইডির অভিযোগ তদন্তে হস্তক্ষেপের সব মিলিয়ে ভোটের মুখে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এখন দেখার, আদালতের শুনানিতে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।





