কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর: জোড়াফুল কার ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরের, নাকি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর? নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির পর এই প্রশ্নই এখন তৃণমূলের অন্দরের লড়াইকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। আর তার উত্তর খুঁজতেই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে দুই শিবিরকে ডেকেছে নির্বাচন কমিশন।
এক ঘণ্টার ব্যবধানে ওই দিন কমিশনের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে দুই পক্ষকেই। ঋতব্রত শিবিরের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। ফলে উপনির্বাচনের আগে ১২ সেপ্টেম্বরের শুনানির দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।
কালীঘাট শিবিরের বক্তব্য, উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গিয়েছে, কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধিও। ফলে আগের ব্যবস্থাতেই জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের অধিকার তাঁদের রয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীক ব্যবহারের অধিকার কমিশন বাতিল করেনি। তাই প্রার্থী ঘোষণা এবং প্রচারে কোনও বাধা থাকার কথা নয়।
অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবিরও নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল হিসেবে তুলে ধরছে। দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং পরিষদীয় সমর্থনের প্রশ্ন সামনে রেখে তারাও কমিশনের স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট আইনি অবস্থান এখনও প্রকাশ্যে স্পষ্ট হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে কমিশনের সামনে একাধিক সম্ভাবনা। শুনানি শেষে কোনও একটি পক্ষকে প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে। আবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সময় লাগলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার পথও খোলা থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুই গোষ্ঠীকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে লড়তে হতে পারে।
সময়ও কম। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। ফলে ১২ সেপ্টেম্বরের শুনানির পর দ্রুতই কমিশনকে অবস্থান স্পষ্ট করতে হতে পারে।
অর্থাৎ, এখন লড়াই শুধু দুই আসনের নয়। জোড়াফুলের দখল কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হতে পারে তৃণমূলের দুই শিবিরের নির্বাচনী লড়াইয়ের পরবর্তী ছবি।





