কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর: বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্ক এ বার পৌঁছে গেল বিধানসভার মেঝেতে। তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদে ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভের ঘটনায় এ বার সরাসরি গ্রেফতারের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে দাঁড়িয়েই কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার মাঝেই প্রসঙ্গ ওঠে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাগেশ্বর বাবা নিজের ধর্মচর্চার পাশাপাশি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং অখণ্ড ভারতের বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য কারও গ্রহণযোগ্য না হলে তা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু তাঁর ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর ঘটনায় আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভা থেকেই পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দুর নির্দেশ, ওই ঘটনায় যাঁরা যুক্ত, তাঁদের ‘অবিলম্বে’ গ্রেফতার করতে হবে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক প্রতিবাদকে ঘিরে এ বার প্রশাসনের অবস্থান যে কঠোর, তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর পরেই তোষণের রাজনীতি নিয়েও বিরোধীদের নিশানা করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, গেরুয়া শব্দের অপমান বা সাধু-সন্তদের অসম্মান করার আগে ‘পাঁচ বার’ ভাবতে হবে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে তুষ্টিকরণের রাজনীতি হয়েছে। সেই রাজনীতির কারণেই বিরোধীদের রাজনৈতিক শক্তি কমেছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত লিলুয়ায় বাগেশ্বর বাবার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালিদের আমিষভোজী খাদ্যাভ্যাস ও রীতিনীতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে কংগ্রেসের মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতা জেলা নেতৃত্ব ভবানীপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরে থানার বাইরে ব্যানার ও বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
বিরোধী শিবিরের দাবি ছিল, ওই মন্তব্য বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি অসম্মানজনক। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রতিবাদের নামে কোনও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ছবি পোড়ানো বরদাস্ত করা হবে না।
ফলে একটি মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক তরজা এ বার গড়াল পুলিশি পদক্ষেপের প্রশ্নে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর নজর থাকবে, ভবানীপুরের ওই ঘটনার তদন্তে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে।





