শিলিগুড়ি, ১০ সেপ্টেম্বর: সভাধিপতির পদত্যাগের পর থেকে মহকুমা পরিষদের কাজকর্ম কার্যত থমকে রয়েছে এমনই অভিযোগ তুলে এ বার সরব হল সারা ভারত কৃষক সভা। একাধিক জনস্বার্থের দাবি সামনে রেখে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সিইও-র কাছে স্মারকলিপি দিল সংগঠনটি। ডেপুটেশনে মোট ১০টি প্রশ্ন ও দাবি তুলে ধরে প্রশাসনের কাছে আগামী ১০ দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।
সভাধিপতির পদত্যাগের পরে মহকুমা পরিষদের প্রশাসনিক কাজকর্ম কী ভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষক সভার প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে সাধারণ সভা কোন আইনের ভিত্তিতে ডাকা হচ্ছে, তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচিত পরিষদের কাজকর্ম নিয়ে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপরেও।
শুধু পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, গ্রামীণ এলাকার একাধিক সমস্যা নিয়েও এ দিন সরব হন কৃষক সভার প্রতিনিধিরা। তাঁদের অভিযোগ, বহু এলাকায় রাস্তার হাল বেহাল। নিকাশি ব্যবস্থাও যথেষ্ট দুর্বল। বর্ষার মরসুমে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলাতেও প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সার্ভে না হওয়া এবং ১০০ দিনের কাজ শুরু না হওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। তাঁদের বক্তব্য, গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান ও মাথার উপর পাকা ছাদের মতো মৌলিক বিষয়গুলি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
কৃষকদের সমস্যার কথাও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় পশুহাট বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা এমন অভিযোগ করেছে কৃষক সভা। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনা, রেশন, আবাস এবং কর্মসংস্থান থেকে বাদ পড়া যোগ্য নাগরিকদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা থেকে গ্রামীণ পরিকাঠামো একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে এ দিনের ডেপুটেশন। কৃষক সভার দাবি, শুধু স্মারকলিপি গ্রহণ নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর এবং দাবিগুলির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। তাই আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রশাসনের জবাবের দিকেই নজর রাখছেন তাঁরা।





