কলকাতা, ১৮ আগস্টঃ বিরোধী দলনেতার কুর্সি শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকবে? ‘আসল’ তৃণমূলের হাতে, নাকি কালীঘাট নেতৃত্বের পছন্দের নেতার হাতে? এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আজ, মঙ্গলবার। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় এদিন রায় ঘোষণা করবে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের ফল প্রকাশের পর পরিষদীয় দলনেতা তথা বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঠিক করে কালীঘাট নেতৃত্ব। সেই মর্মে ৯ মে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে চিঠিও দেওয়া হয়।
কিন্তু এরপরেই দলের অন্দরে শুরু হয় বড়সড় ভাঙন। তৃণমূলের একাংশ কালীঘাট নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা শিবির গড়ে। মোট ৬৫ জন বিধায়ক ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন বলে দাবি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁকেই বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানানো হয় স্পিকারের কাছে।
অন্য দিকে, ঋতব্রত-সহ ওই বিধায়কদের সাসপেন্ড করে কালীঘাট শিবির। অভিযোগ ওঠে, দলের তরফে আগে পাঠানো চিঠি উপেক্ষা করে বিদ্রোহী শিবিরের আবেদনকে গুরুত্ব দিয়েছেন স্পিকার। শেষ পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিধানসভার অধিবেশনেও তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলার শুনানিতে স্পিকার ও ঋতব্রত শিবিরকে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সাসপেন্ড হওয়া বিধায়কদের আবেদন কেন গুরুত্ব পেল, কেন কালীঘাট নেতৃত্বের চিঠিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হল না এমন একাধিক প্রশ্ন উঠে আসে শুনানিতে।
দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষ হওয়ার পর প্রায় এক মাস রায়দান স্থগিত ছিল। অবশেষে আজ সেই মামলার রায়। আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয়, নাকি কালীঘাট শিবিরের দাবি মান্যতা পায় তার উপরই নির্ভর করছে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী রাজনীতির পরবর্তী সমীকরণ।





