কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর: বিতর্ক, বাকযুদ্ধ, ওয়াকআউট সব পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বিধানসভায় পাশ হল বহুচর্চিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ল ১৭১টি ভোট। বিপক্ষে ১৫। সেই ১৫ জনের মধ্যে কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের ১১ বিধায়ক ছাড়াও ছিলেন নওসাদ সিদ্দিকী, মোস্তাফিজুর রহমান এবং কংগ্রেসের দুই বিধায়ক।
বিল ঘিরে বিরোধিতার সুর অবশ্য শুরু থেকেই তীব্র। আলোচনায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্রতিহিংসার জন্য এই আইন ব্যবহার না হলে তাঁরা নীতিগত ভাবে বিলের বিরোধিতা করছেন না। কিন্তু প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন খর্ব করে এই বিলের আড়ালে ‘গৈরিকীকরণ’-এর পথ তৈরি করা হতে পারে। পরে ক্ষোভ জানিয়ে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করে তাঁর নেতৃত্বাধীন বিধায়কদল।
বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর কটাক্ষ, অতীতে সিপিএমের আমলে উচ্চশিক্ষায় ‘অনিলায়ন’ হয়েছিল, পরে হয়েছে ‘মমতায়ন’। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কোনও ‘-আয়ন’ নয়, বরং দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা।
সরকারের যুক্তি, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলিতে অধ্যাপকদের বদলির সুযোগ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থা ছিল না। সেই বৈষম্য দূর করতেই নতুন আইন। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, স্বশাসনের নামে কোথাও ‘কুশাসন’ বা স্বেচ্ছাচারিতা হলে এই আইনই সরকারের হাতিয়ার হবে।
তবে বিলের প্রশাসনিক দিক ছাপিয়ে বিতর্কের উত্তাপ বাড়িয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গ। বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন ও ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত। ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’, কিষেনজির নাম বা ‘লাল সেলাম’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।
ফলে শিক্ষক বদলির আইন পাশ হলেও, তার রাজনৈতিক অভিঘাত যে এখানেই থামছে না, বিধানসভার উত্তপ্ত পর্বই তার ইঙ্গিত দিয়ে গেল।




