কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর: দুর্গাপুজোর আগে ফের রাজনীতির কেন্দ্রে ‘দুর্গাপূজা’ বনাম ‘শারদোৎসব’ বিতর্ক। বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় বামপন্থী অধ্যাপক ও কমিউনিস্ট সংগঠনগুলি। তাঁর বক্তব্য, পুজোর সময়ে কোনও কমিউনিস্ট সংগঠন বইয়ের স্টল দিতে চাইলে সেখানে ‘শারদোৎসব’ নয়, স্পষ্ট করে ‘দুর্গাপূজা’ লিখতে হবে। না হলে স্টল করতে দেওয়া হবে না এমনই কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর সরকার প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস ও ধর্মাচরণের অধিকারকে সম্মান করে। মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা আদিবাসী সকলেই নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করছেন স্বাধীন ভাবে। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, একাংশ বামপন্থী অধ্যাপক ‘ছদ্মবেশে’ সনাতন ধর্মকে নিশানা করছেন।
কপালে তিলক, মাথায় শিখা, গলায় তুলসীর মালা কিংবা গেরুয়া পোশাক নিয়ে কেন আপত্তি থাকবে, সেই প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সনাতন ধর্মকে কেবল ‘সংস্কৃতি’ হিসাবে দেখানোর প্রবণতা থেকেই দুর্গাপুজোকে ‘শারদোৎসব’ বলার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
এর পরেই পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে তাঁর বার্তা কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল হলে নামকরণ নিয়েও নজর রাখতে হবে। ‘দুর্গাপূজা’ শব্দটি স্পষ্ট ভাবে লেখা না থাকলে স্টল না দেওয়ার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে নকশাল আন্দোলন থেকে শুরু করে বাম আমলের নানা কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে অতীতের হিসাব নেওয়ার কথাও জানান।
সিপিএমের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গরিব মানুষের টাকা ব্যবহার করে বহু দলীয় কার্যালয় তৈরি হয়েছিল এবং যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে দলীয় ঘনিষ্ঠদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল।
শুধু সাম্প্রতিক সময় নয়, বাম আমলের ৩৪ বছর এবং পরবর্তী ১৫ বছরের ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখে অনিয়মের হিসাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয় বিলের বিতর্ক থেকে শুরু হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা পৌঁছে গেল পুজোর নামকরণ, ধর্মীয় পরিচয় এবং বাংলার রাজনৈতিক অতীতের হিসাব-নিকাশে।




