কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর: সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ উঠতেই শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। কালীঘাট থেকে সিআইডির হাতে তাঁর গ্রেফতারির পরেই আরও চড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। এ বার সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের প্রবীণ বিধায়ক মদন মিত্র। সুমিতের গ্রেফতারি এবং অভিষেকের বিদেশযাত্রার সময়কালকে পাশাপাশি রেখে প্রশ্ন তুললেন তিনি।
মদনের বক্তব্য, ‘‘অভিষেক চিকিৎসা করাতে বিদেশে গেছেন। তিনি ভাল করে চিকিৎসা করান, যাতে বার বার বাইরে দৌড়তে না হয়। কিন্তু সুমিতের এই গ্রেফতারির ক্রোনোলজিটা সব বলে দিচ্ছে! অভিষেক বিদেশ চলে গেলেন আর সুমিতকে এখানে ফেলে রেখে গেলেন।’’ তাঁর প্রশ্ন, অভিষেকের বিদেশযাত্রা কি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, নাকি ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে?
এর পরেই অভিষেকের বিদেশে থাকা এবং জীবনযাপন নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন মদন। নিউ জার্সির লং আইল্যান্ডে অভিষেকের কথিত বিলাসবহুল ভিলা, চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত এবং তার অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি জানান তিনি। তবে মদনের এই দাবিগুলির স্বাধীন কোনও প্রমাণ এই বক্তব্যে সামনে আসেনি।
কালীঘাটের তৃণমূলের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওই বিধায়ক। তাঁর দাবি, বিপুল অর্থ ও ক্ষমতার পিছনে কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্য দিকে, সুমিতের গ্রেফতারির ঘটনাপ্রবাহও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। এর আগে ভবানী ভবনে তাঁকে ১১ বার তলব করেছিল সিআইডি। তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ সত্ত্বেও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরে ফের আত্মগোপনের আশঙ্কাও ছিল তদন্তকারীদের। সেই রক্ষাকবচ উঠতেই কালীঘাটে তৎপর হয় সিআইডি-এসটিএফ।
শালবনি জমি মামলায় চার জনের নাম-সহ চার্জশিট প্রস্তুত বলে তদন্তকারীদের দাবি। আগে গ্রেফতার হয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুর তৃণমূলের প্রাক্তন সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা-সহ আরও এক জন। এ বার সেই মামলায় সুমিতের গ্রেফতারি ঘিরে প্রশ্ন আরও বড় তদন্ত কি এবার আরও উপরের দিকে এগোবে? রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই দিকেই।





