কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর: বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও অধ্যাপক-শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত সংশোধনী বিল ঘিরে উত্তপ্ত বিধানসভা। বিলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে এক দিকে বিরোধীদের আক্রমণ, অন্য দিকে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বার্তা, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দলীয় রাজনীতি নয়, চাই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং জাতীয়তাবাদী মনোভাব।
বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের নতুন তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতেই পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিজ্ঞ শিক্ষক-কর্মীদের কাজে লাগাতে চায় সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা এই বিল প্রয়োগ করব আমাদের নতুন তৈরি হওয়া ইউনিভার্সিটিগুলোতে।’’ তাঁর কটাক্ষ, মার্ক্স, লেনিন, চে গুয়েভারা, সমাজতন্ত্র নিয়ে যাঁদের এত জ্ঞান, তাঁরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি তৈরিতে সাহায্য করতে পারেন।
বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কর্মী আধিক্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। জুটার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর অভিযোগ, ‘‘লাল ঝান্ডা কাঁধে তুলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ না ডেকে তাঁরা বরং যেখানে শিক্ষাকর্মী নেই সেখানে গিয়ে কাজ করুন।’’
বদলি সংক্রান্ত আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও বিধানসভায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা সমবর্তী তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রাজ্যের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষক বদলির অনুরূপ ব্যবস্থার উদাহরণও দেন।
তবে বক্তৃতার সবচেয়ে কড়া অংশ ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, মিছিল হলে ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে এবং জাতীয় পতাকা রাখতে হবে। ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’-র মতো স্লোগান নিয়েও কড়া অবস্থান জানান তিনি। কিষেনজির মতো মাওবাদী নেতার নাম বাংলায় লেখার বিরুদ্ধেও সরব হন।
বিশ্ববিদ্যালয় বিল তাই শুধু প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাবেই আটকে থাকল না। বিধানসভাতেই তা হয়ে উঠল শিক্ষা, রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ এবং ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের মঞ্চ।




