খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারিঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন-এর প্রাক্কালে প্রাথমিকের প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কলকাতা হাইকোর্ট-এর ডিভিশন বেঞ্চ যে রায়ে চাকরি বহাল রেখেছিল, সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ এবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এর দ্বারস্থ হয়েছেন। ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন দায়ের হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। এর আগে ২০২৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রায় ৩২ হাজার প্রশিক্ষণহীন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণের উল্লেখ ছিল। যদিও তিনি জানিয়েছিলেন, চাকরি বাতিল হলেও শিক্ষকরা আপাতত স্কুলে যেতে পারবেন এবং তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
ডিভিশন বেঞ্চের মত ছিল ভিন্ন। দীর্ঘ ন’বছর পর একযোগে এতজনের চাকরি বাতিল হলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। সেই যুক্তিতেই একক বেঞ্চের রায় বাতিল করে চাকরি বহাল রাখা হয়। এতে স্বস্তি পেয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
তবে মামলাকারীদের অভিযোগ, মানবিকতার যুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ উপেক্ষা করা হয়েছে, যা আইনসঙ্গত নয়। তাঁদের দাবি, গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই অসঙ্গতি ছিল বলেই একক বেঞ্চ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। ফলে ডিভিশন বেঞ্চের রায় পুনর্বিবেচনা জরুরি।
মার্চের প্রথম সপ্তাহেই শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি হতে পারে। ফলে নির্বাচনের মুখে শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ এবং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা দুটোই এখন আইনি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।





