নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফের নিজেদের নেতাদের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ করল বিজেপি। বর্ধমান উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার দুই নেতাকে সাময়িক সাসপেন্ড করার পাশাপাশি শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে দল। সাত দিনের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ততদিন পর্যন্ত দলের কোনও সাংগঠনিক কর্মসূচি বা কার্যকলাপে অংশ নিতে পারবেন না তাঁরা।
দলীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন বর্ধমান দক্ষিণের সুমিত দত্ত এবং বর্ধমান উত্তরের রামানন্দ মজুমদার। সুমিতের বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোর করে দোকান দখলের চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। রামানন্দের বিরুদ্ধেও ভোট-পরবর্তী হিংসা-সহ নানা দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির তরফে তাঁদের শোকজ ও সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’র নীতি নিয়েছে বিজেপি। নেতৃত্বের দাবি, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে বা আইনবিরোধী কাজে জড়িত থাকলে পদ বা প্রভাব দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয় সূত্রের দাবি, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজ্য জুড়ে ইতিমধ্যেই শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শোকজ বা সাময়িক সাসপেনশনের পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র কল্যাণকুমার মাঝির বক্তব্য, “দলের শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কেউ নন। যত বড় নেতা বা কার্যকর্তাই হোন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল ব্যবস্থা নেবে।”
অন্য দিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমিত দত্ত। তাঁর দাবি, দলের একাংশ তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। দোকান দখলের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শোকজের জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন। রামানন্দ মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বার্তা স্পষ্ট বিরোধীদের বিরুদ্ধে নয়, অভিযোগ উঠলে নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিতে চাইছে বিজেপি। এখন নজর, শোকজের জবাবে কী বলেন অভিযুক্ত দুই নেতা।





