কলকাতা, ১০ আগস্টঃ পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত হালিশহর। সেই আবহেই সোমবার সকালে নিহত বিরজু কুমারের বাড়িতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে মন্ত্রী অর্জুন সিং, সুমনা সরকার, স্থানীয় বিধায়ক, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং বারাকপুরের সিপি। রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ‘রাজধর্ম’ পালনের নজির বলেই তুলে ধরলেন তিনি।
নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাড়ি থেকে বেরিয়েই জানান, হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের হাতে না রেখে জেলাশাসককে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘পুলিশ লকআপে মারা গিয়েছেন, তা দিনের মতো সত্যি। কতটা অত্যাচারে মারা গিয়েছেন, রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত বলতে পারব না।’’ নিহতের স্ত্রী তাঁর কাছে দোষী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বলেও জানান শুভেন্দু।
পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট পদে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এই পদে এক বছর কাজের পর গ্রুপ ডি কর্মী হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি দুই শিশুর পড়াশোনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করেন।
বিরজুর মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। পরিবারের অভিযোগ, গ্রেফতারের পর মেডিক্যাল পরীক্ষার সময় সুস্থ ছিলেন বিরজু। গভীর রাতে পুলিশ হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশি অত্যাচারেই মৃত্যু এমন অভিযোগও তুলেছে পরিবার।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপে তদন্তের গতি কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার। কারণ হালিশহরের ঘটনায় শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, প্রশ্নের মুখে পুলিশের হেফাজতে থাকা মানুষের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের দায়ও।





